চিত্রনাট্য

মন বাকসো

তুষার আবদুল্লাহ প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২২, ১১:৩৩ এএম মন বাকসো

কাহিনী, সংলাপ ও গান রচনা: তুষার আবদুল্লাহ

সম্ভাব্য পরিচালক: অঞ্জন দত্ত

 

সারসংক্ষেপ

নির্জন চৌধুরী কবিতা লেখেন। কবিদের কাগজে বা কম্পিউটারে কবিতা লিখতে দেখা যায়। কিন্তু নির্জন চৌধুরী কবিতা লিখেন ক্যানভাসে। নিজেই কবিতার চারপাশে অলংকরণ করেন। নির্জন চৌধুরীর মেয়ে মৈত্রী। মৈত্রীর সঙ্গে নির্জন চৌধুরীর সম্পর্কটা কেবল বাবামেয়ের নয়। তারা একে অপরের ভাল বন্ধু। মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। চলাফেরা পাশ্চাত্যের আদলে। নিজস্ব একটা বন্ধুত্বের গন্ডির মধ্যে কার চলাফেরা। বন্ধুরাও আধুনিক চলন-বলনে অভ্যস্ত। নির্জন চৌধুরী কবিতা লিখেই দিনযাপন করেন। পৈত্রিক সম্পত্তি অগাধ, তাই রুটি রুজির জন্য তার অন্য জীবিকার কথা ভাবতে হয়না। একই কারনে টান পড়েনা মৈত্রীর আধুনিক জীবন-যাপনের রসদেও। মৈত্রীর বন্ধু হয়ে কাছে আসে অনেকেই। আসে দৈর্ঘ্য। আসে শুভ্র। দেখা হয় স্পন্দনের সঙ্গে। এই তিন জনকে ভিন্ন ভাবে, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে চায় মৈত্রী।

দৈর্ঘ্য অনেকটা জোর করেই পেতে চায় মৈত্রীর ভালবাসা। কিন্তু দৈর্ঘ্যর ভালবাসা কেড়ে নেয়ার প্রবণতাটি পছন্দ নয় মৈত্রীর। সে দৈর্ঘ্যর কাছ থেকে সরে আসতে চায়। সরে আসতে গিয়েই পরিচয় হয় স্পন্দনের সঙ্গে। স্পন্দন সামাজিক সচেতনতা মূলক কাজে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। স্পন্দনের কাজটার প্রতি এক প্রকার ভাললাগা তৈরি হয় মৈত্রী’র। কিন্তু সেই ভাললাগার প্রকাশটা সরাসরি জানানো হয় না স্পন্দনকে। স্পন্দনের সাথে সম্পর্কটা কতদূর টেনে নেয়া যায়, তা নিয়েও মনের মধ্যে টানাপোড়েন আছে মৈত্রী’র। ফিরে এসে এক ফ্যাশন শো’তে পরিচয় হয় শুভ্রের সঙ্গে। শুভ্রের সাথে মৈত্রীর সম্পর্কটা খুব দ্রুতই এগিয়ে যায়। এতোটা দ্রুত এগিয়ে যায় যে, সেটা শারিরীক সর্ম্পকতে গড়ায়। যদিও মৈত্রীর দৃষ্টিতে সেখানে মন ছিল অনুপস্থিত। শুভ্রের সঙ্গে সম্পর্কটা আর এগিয়ে নিতে চায়নি মৈত্রী। অজুহাত শুভ্রের সকল রহস্যই তার জানা হয়ে গেছে। যার সবটা রহস্য জানা তার সাথে বাকি দিন কাটানো অসম্ভব। মৈত্রী কোন সম্পর্কেই থিতু হতে পারেনা। এগিয়ে যেয়ে থমকে দাঁড়ায়। সংশয় সম্পর্কটা টেনে নেয়া যাবেতো?

মৈত্রীর বাবা নির্জন চৌধুরীর বান্ধবী অপর্ণা। টেলিভিশন সাংবাদিক অর্পণা আষ্টেপৃষ্ঠে আছে নির্জন চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে। বিপত্নীক নির্জনকে মানসিকভাবে আগলে রাখে অর্পণা। নির্জনের মতো অপর্ণাও চান মৈত্রী কারো সঙ্গে সম্পর্কের বাঁধনে জড়াক। তাই তার সহকর্মী সৌরভকেও সে অর্পণার সাথে ঢাকার বাইরে পাঠায়। কিন্তু সেই চেষ্টাও ভেস্তে যায়। অর্পণার এই চেষ্টাকে সহজ ভাবে নেয়না মৈত্রী। যদিও মৈত্রী তার অনেক মানসিক জট খুলতে অপর্ণারই দ্বারস্থ হয়। কিন্তু ওর ধারণা মৈত্রীকে কোন একটা সম্পর্কে বন্দি করে হয়তো অপর্ণা এবং নির্জন পরস্পরের কাছাকাছি আসবে। এই ভুল ধারনা থেকে বাবা- মেয়ে’র মধ্যেও দূরত্ব তৈরি হয়। বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যায় অজানা গন্তব্যে। মৈত্রীকেও দেখা যায় বাড়ি ছাড়তে।

মৈত্রী বাড়ি থেকে গিয়ে একা নিজেকে যখন সময় দেয়, তখন সে বুঝতে পারে তার অস্থির এই পথ চলাতে স্থিরতা নিয়ে আসতে পারে স্পন্দন। তাই স্পন্দনকে ফোন দেয়। কথা হয়। স্পন্দনও মৈত্রীকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে। মৈত্রী সিদ্ধান্ত নেয় তার স্পন্দনই হবে তার মন বাকসো। আর সে ফিরে আসতে চায় তার আরেক মন বাকসো বাবা নির্জন চৌধুরীর কাছে। বাবাকে  সে ফিরে আসতে বলে। মেয়ের  ডাকে নির্জন ফিরে আসে। মৈত্রীর অপেক্ষায় যখন অপর্ণা এবং নির্জন চৌধুরী। তখনই খবর আসে বাবার কাছে, পথ দুর্ঘটনায় মারা গেছে মৈত্রী। বাবার কাছে ফিরে আসে কেবল মৈত্রীর কেনা চায়ের বাক্সটি।

 

চিত্রনাট্য

দৃশ্য: ১

স্থান: জাফলং নদী

সময়: সন্ধ্যা

চরিত্র: নির্জন

প্রপস:  অ্যালকোহলের ছোট বোতল

সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার অপেক্ষায়। অবারিত ফসলের মাঠের দিগন্তে সূর্য অস্ত যাওয়ার মূহুর্তটি দেখা যাচ্ছে। নির্জন চৌধুরীর সেদিকে খেয়াল নেই। অস্তগামী সূর্যকে বায়ে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। বিরল শূন্য কিলোমিটার, মাইল ফলকটি অতিক্রম করেও খানিকটা হেঁটে যাবে সে। ততোক্ষণে সূর্য বিদায় নিয়েছে। পশ্চিম আকাশে মিশে আছে তার বিদায় চিহ্নের লাল আভাটুকু। অন্ধকার ধীরে ধীরে নির্জন চৌধুরীকে ঘিরে ধরছে। নির্জন চৌধুরীর দৃষ্টি সামনের অপরিচিত গন্তব্যের দিকে।

তার পকেটে সেল ফোন বাজতে থাকে।

কাট

দৃশ্য: ০২

স্থান: যায় যায় দিন

সময়: দিন

চরিত্র: অর্পিতা ও অন্যান্য

প্রপস: একটি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা কক্ষ।

অফিসে স্বাভাবিক ব্যস্ততা। অর্পিতা বার্তা সম্পাদক। স্ক্রিপ্ট দেখা, ফোন রিসিভ করা নিয়ে ব্যস্ত সে। একসময় সিট থেকে উঠে প্রায় দৌঁড়ে গিয়ে ঢুকবে প্রডাকশন কন্ট্রোল রুমে। নিউজ প্রেজেন্টার নিউজ পড়ে যাচ্ছে। অর্পিতার মোবাইল ফোন বেজে উঠবে। ফোনে কথা বলবে—

অর্পিতা:  সকাল-সন্ধ্যা? আচ্ছা ব্রেকিং দিচ্ছি, তুমি একটা কমেন্ট নিয়ে আসো ওদের।

অর্পিতা মোবাইল রেখে ল্যান্ড ফোন তুলে নেবে

হুম শোন জলদি ব্রেকিং দাও। অন্যরা দেবার আগে, জলদি।

ল্যান্ড ফোন রেখে মোবাইল কানে নেয় অর্পিতা

কোথায় ? মেয়ে কই ? কাল হরতাল। এখন আগুন- ভাংচুর হতে পারে।

নির্জন চৌধুরী লেখার টেবিলে। চায়ের কাপ হাতে। কথা বলছে অর্পিতার সঙ্গে

নির্জন: শোনো  একটা কবি কবিতা লিখলাম। শুনবে?

অর্পিতা ফিসফিস করে বলবে

অর্পিতা: নির্জন আগে মৈত্রীর খবর নাও। আর কবিতাটা টেক্সট করো।

নির্জনও ফিসফিস করে বলবে

নির্জন: টেক্সটে তোমার  নিঃশ্বাস টের পাইনা  যে

অর্পিতা কপট রাগের ভঙ্গিতে বলবে

অর্পিতা: শুধু ফোনেই নিঃশ্বাস গুনতে চাও তাইনা? ঠিক আছে তাই হবে তাহলে। এখন লক্ষী প্লিজ রাখি।

নির্জন একটু  আবদার ঢঙে বলবে

নির্জন: তবে কবে তোমার লাইভ নিঃশ্বাস পাচ্ছি?

অর্পিতা হেসে বলবে

অর্পিতা: পচা ছেলে

কাট

দৃশ্য: ০৩

স্থান: ধানমন্ডির কফিশপ

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী,দৈর্ঘ্য, রুম্পা, বিয়ন,জাহিন

প্রপস: কফি

 

একটা অভিজাত কফি শপে বন্ধুদের নিয়ে তুমুল আড্ডায় ব্যস্ত মৈত্রী। ওর পরনে শার্ট-ট্রাউজার। মৈত্রীর সাথে আছে জাহিন, রুম্পা, দৈর্ঘ্য, বিয়ন। মৈত্রীর কথা শোনা যাবে

 

মৈত্রী: আমার  বিরুদ্ধে খারাপ ব্যবহারের চার্জশিট দিয়েছিস তোরা? এটা কি করে পারলি তোরা?

দৈর্ঘ্য কফির কাপ মুখে তুলতে তুলতে বলবে

দৈর্ঘ্য: শোন এই যে হঠাৎ করে তোর লাপাত্তা হয়ে যাওয়া। ফোনটি রিসিভ করার প্রয়োজনও মনে করিসনা এটাকে কি বলবো?

মৈত্রী একটু আওয়াজ করেই কফির কাপটা টেবিলে রাখবে। তারপর বলবে

মৈত্রী: এটা  অবকাশ বন্ধু। অবকাশ। কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে কি লাভ বল? এই আজ আমরা আছি পাঁচ জনা,কাল চারজনাও হয়ে যেতে পারি। রোল কল হলে..

মৈত্রীর ফোন বেজে উঠবে। ফোন তুলে একটু ধমকের সুরেই বলবে

মৈত্রী: কি  কবিতা আসছে না,তাই বলে রাস্তায় রাস্তা হেটে বেড়াচ্ছ?

নির্জন চৌধুরী বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলছে

নির্জন: না  কবিতা আসছে জোয়ারের পানির মতো। তুই কই?

মৈত্রী এবার একটু ঢং করে বলবে

মৈত্রী: কয় লাইন হলো আপনার? নাকি এক লাইনেই শেষ?

রেলিংয়ে হেলান দিয়ে নির্জন চৌধুরী বলবে

নির্জন: লাইনের পর লাইন জমছে। কাল হরতাল, তাড়াতাড়ি বাড়ি আয়।

মৈত্রী চিৎকার করে বলবে

মৈত্রী: ওয়াও বাবা গুড নিউজ। থ্যাংকস। কে খবরটা দিলো অর্পিতা আন্টি? গুড। কাল আবার হলিডে ফ্রেন্ডস।

মৈত্রী ফোনটা কেটে দেবে। রুম্পা বলবে

রুম্পা: হরতাল সেলিব্রেট করতে আরেক রাউন্ড করে কফি হয়ে যাক।

সবাই চিৎকার করে বলবে

সবাই: ইয়েস বস।

দৈর্ঘ্য তার কফির মগ মৈত্রীর দিকে বাড়াবে। মৈত্রী সেটা আঙুল দিয়ে সরিয়ে দেবে। তা দেখে বিয়ন লাফ

দিয়ে এসে মৈত্রী আর রুম্পার কাঁধে হাত রাখবে

বিয়ন: এই ভয়তালে তুমি যদি ঘরে নাই রও, তবে কি করে হবে বলো তুমি ঘরনী, বলোনা?

সবাই এক যোগে হেসে উঠবে

কাট

দৃশ্য: ০৪

স্থান: দৈর্ঘ্যরে বাড়ির রুম, সামনে ছাদ

সময়: রাত

চরিত্র: দৈর্ঘ, মৈত্রী

প্রপস: সাধারণ ঘরের জিনিসপত্র

 

মৈত্রী: আমার চোখ। চলন-বলনের ভাষা তুমি পড়তে পারোনি দৈর্ঘ্য

দৈর্ঘ্য: তুমি এতো দুর্বোধ্য কেনো? আজকের আড্ডায়ও বসে তোমাকে লক্ষ্য করেছি। একবারের জন্যও আমার দিকে তাকাওনি তুমি।

হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে দৈর্ঘ্যরে মুখোমুখি দাঁড়াবে মৈত্রী

মৈত্রী: তুমিইতো আমাকে নদী বলো। নদীর ছুটে চলা কতো সরল দেখেছো, বুঝতে না পারার দায়তো, যে তীরে দাড়িঁয়ে আছে তার তাইনা?

দৈর্ঘ্য আবার মৈত্রীর কাছে ঘেঁষে ওকে জড়িয়ে ধরতে চাইবে, মৈত্রী আলতো ভাবে ওকে সরিয়ে দেবে।

দৈর্ঘ্য এবার ফ্লোরেই বসে পড়বে

দৈর্ঘ্য: আমার বুঝি জলে নামতে ইচ্ছে করে না?

মৈত্রী হেসে উঠবে। আঙুলে পেঁচানো টিস্যু ছুঁড়ে দেবে দৈর্ঘ্যরে দিকে

মৈত্রী: নদীকে না জেনে ঝাঁপ দিতে নেই। বিপদ হতে পারে।

দৈর্ঘ্য এবার ফ্লোরে পুরোপুরি শুয়ে পড়বে।

দৈর্ঘ্য: আমিতো আপদের খোঁজ করছিনা মৈত্রী

মৈত্রী আকাশের  দিকে চোখ রেখে বলবে

মৈত্রী: বিপদ তোমাকে ডাকছে, সেতো দেখতেই পাচ্ছি। কিন্তু আপাতত কাউকে বিপদে ফেলার ইচ্ছে এবং

সময় দুটোই আমার নেই।

দৈর্ঘ্য হামাগুড়ি দিয়ে মৈত্রীর দিকে এগিয়ে যাবে

দৈর্ঘ্য: প্লিজ, মৈত্রী আমাকে একটু বিপদে পড়তে দাওনা। আমি তোমাকে যেমন ভালবাসি, তেমন বিপদকেও ভালবাসি

মৈত্রী উঠে  দাঁড়াবে

মৈত্রী: কাকে বিপদে ফেলতে হয়, তা নিয়েও আমার একটা রুচিবোধ আছে দৈর্ঘ্য, তুমি সেই মানেও পৌঁছনি।

দৈর্ঘ্যও উঠে দাঁড়াবে

দৈর্ঘ্য: পৌঁছার পথটা দেখিয়ে দেবে, কিংবা ঐ

পথে কি করে হেঁটে যাওয়া যায় একটু শেখাবে?

মৈত্রী ছাদ থেকে নেমে যেতে যেতে বলবে

মৈত্রী: তারা গুনে গুনে দেখো ঐ পথের দেখা পাও কিনা।

কাট

দৃশ্য: ০৫

স্থান: যায় যায় দিন

সময়: দিন

চরিত্র: অর্পিতা ও অন্যান্য

প্রপস: নিউজ রুম

অর্পিতা খবর সম্পাদনায় ব্যস্ত। তাকে ঘিরে আছে ২/৩ জন সহকর্মী। অর্পিতা স্ক্রিপ্ট দেখতে দেখতে তাদের সাথে কথা বলছে।

অর্পিতা: শোনো পূর্বাঞ্চল বাঁধটা যতক্ষণ না তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম কমছে না। যতই একেরপর এক ফ্লাইওভার করা হোক না কেন।

সহকর্মীদের একজন বলবে

একজন: পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন বললেন এধরনের কোন প্রকল্প নেই।

চেয়ারে হেলান দিয়ে অর্পিতা বলবে

অর্পিতা: এগুলো সব ফ্রেশার ইঞ্জিনিয়ার বুঝলে। এরপর দেখা হলে বলে দিও নব্বইতেই ঐ প্রজেক্ট নেয়া হয়েছিল।

অর্পিতার মোবাইলে ম্যাসেজ আসার শব্দ। অর্পিতা ম্যাসেজ দেখে নিয়ে সহকর্মীদের দিকে তাকিয়ে হাসবে, তারপর বলবে:

অর্পিতা: বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে বুঝি, বরষা ভেসে যায় কার যে ভরসায়?

কাট

(ইন্টারকাট দৃশ্য)

দৃশ্য: ০৬

স্থান: ঢাকার রাস্তা (হাতিরঝিল)

সময়: দিন

চরিত্র: অর্পিতা, নির্জন

প্রপস: গাড়ি, ব্লুটুথ

অর্পিতা নির্জনের সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছে। কানে ব্লুটুথ।

অর্পিতা: মেয়ে বাড়ি ফিরলো?

নির্জন লেখার টেবিলে। সামনে কম্পিউটার। সেখানে তার কবিতার কিছু অংশ দেখা যাবে।

নির্জন: না। এখন পর্যন্ত কোন সাড়া নেই।

অর্পিতা ঠোঁট কামড়ে বলবে

অর্পিতা: নির্জন, মেয়েটার পায়ে ঘুঙুর পড়াও।

এখনতো আর সেই পিংক বারবি ডলটি নেই।

নির্জন লেখার টেবিল থেকে উঠে ঐ ঘরের দেয়ালে টাঙানো মৈত্রীর ছবির সামনে গিয়ে দাঁড়াবে

নির্জন: আমার কাছে যে মৈত্রীর বয়স বাড়েনা

অর্পিতা   : ও যে এখনো সেই পুতুলটিই আছে?

গাড়ি পার্ক করতে করতে অর্পিতা বলবে

অর্পিতা: মেয়েরা বাবাদের চোখে বড় হয়না কখনো। অন্যের চোখে হয়। তখনই ঘটে বিপত্তি।

ছবির কাছ থেকে সরে এসে আবার লেখার টেবিলে বসবে নির্জন

নির্জন: আমার কাছে কোন ভালবাসার মানুষেরই বয়স বাড়েনা। যেমন বাড়েনি তোমার।

লিফটের কাছে এসে অর্পিতা উত্তর দেবে

অর্পিতা: নির্জন, হেঁয়ালি রাখো। মৈত্রীর খবর নাও। রাত অনেক হলো টেবিল মাথা এলিয়ে দিয়ে বিড়বিড় করে

বলতে থাকবে নির্জন।

নির্জন: আমার যে কেনো ভোর হয়না। পৃথিবীটা কি আর দিনের কাছে ফিরে যাবে না?

কাট

দৃশ্য: ০৭

স্থান: নির্জনের বাড়ি

সময়: সন্ধ্যা

চরিত্র: মৈত্রী, নির্জন

প্রপস: গাড়ি

মৈত্রীর হুড খোলা গাড়িটা বেইসমেন্টের পার্কিং লটে এসে দাড়াঁবে। মৈত্রী গান গাইতে গাইতে লিফটে ঢুকে পড়বে। লিফট থেকে নেমে এসে ফ্ল্যাটে ঢুকতেই দেখতে পাবে নির্জন ইজি চেয়ারে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। তার বুকের কাছে চায়ের কাপ। এক আংগুলে ধরা। কিছুটা চা গড়িয়ে নির্জণের ফতুয়াতেও পড়েছে। মৈত্রী চিৎকার করে উঠবে

মৈত্রী: বাবা দিলেতো আরেকটা ফতুয়া নষ্ট করে।

নির্জন চোখ মেলবে। কাপটা ফ্লোরে রাখবে।

নির্জন: কতো কিছুইতো নষ্ট হলো, হচ্ছে, একটা ফতুয়ার জন্য মায়া করে কি লাভ? কখন ফিরলি?

মৈত্রী পেছন থেকে এসে নির্জনকে জড়িয়ে ধরবে। নির্জনের সাদা চুল গুলো নাড়তে থাকবে।

মৈত্রী: আমি কোথাও গেলে না ফিরবো। আমিতো টুয়েন্টি ফোর এট সেভেন তোমার কাছেই।

নির্জন মৈত্রীর গালটা নিজের গালের কাছে নিয়ে আসবে

নির্জন: খেয়ে  এসেছিস?

মৈত্রী ঘুরে এসে নির্জনের কোলের উপর বসে পড়বে

মৈত্রী: পাগল,আমি তোকে ছাড়া রাতে খেয়েছি কোথাও? চল খেয়ে নেই।

মৈত্রী খাবার টেবিলের দিকে যাবে। নির্জন ইজি চেয়ারে বসেই বলবে

নির্জন: বুঝলি আব্বা, আজ একটা শব্দও বের হলোনা। কি যে করি। কাল লেখাটা দেয়ার কথা

মৈত্রী টেবিল তৈরি করতে করতে উত্তর দেবে

মৈত্রী: চিন্তা করোনা। ঘুমের মধ্যে পেয়ে যাবে।

সকালে মাথা থেকে কষ্ট করে একটু প্রিন্ট দিয়ে নিও।

নির্জন গিয়ে মৈত্রীর পাশ ঘেষেঁ দাঁড়াবে

নির্জন: দৈর্ঘ্যরে খবর কিরে? অনেক দিন ওকে নিয়ে গল্প শুনিনা

মৈত্রী একটু দূরে সরে যাবে। গøাসে পানি ঢালতে ঢালতে বলবে

মৈত্রী: কি জানি, হয়তো খাটো হয়ে গেছে, তাই   আমার চোখে পড়ছে না।

কাট

দৃশ্য: ০৮

স্থান:  নর্থ সাউথ/ আইইউবি

সময়: দিন

চরিত্র: দৈর্ঘ, জিহান, বিয়ন

প্রপস: দৈর্ঘ্যরে মোটর বাইক

একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সিঁড়িতে বসে আছে জিহান, দৈর্ঘ্য ও বিয়ন। জিহান কথা বলবে

জিহান: পরীক্ষার পর মৈত্রী দেশের বাইরে চলে যাবে শুনছি। তখন তুইও ওর পিছু নিবি নাকি দৈর্ঘ্য?

জাহিনের দিকে তাকাবে দৈর্ঘ্য। তারপর মোটর সাইকেলের চাবির রিং ঘোরাতে ঘোরাতে বলবে

দৈর্ঘ্য: দৈর্ঘ্যরে অতো দূর যেতে হবেনা।পরীক্ষার আগেই দেখবে শিকার আমার জালে

বিয়ন দৈর্ঘ্যরে থুতনী ধরে বলবে

বিয়ন: তোরটা কি কারেন্ট জাল দোস্ত?

জিহান হাসতে হাসতে বলবে

জিহান: দেখিস আমাদের বন্ধু যেনো আবার কারেণ্টের শকে ঝলসে না যায়

বিয়ন দাড়িয়ে আবৃত্তি করার ঢঙে বলবে

বিয়ন: হে মৈত্রী, প্রিয়তমা মোদের তুই যেনো দৈর্ঘ্যরে ভালবাসার এক ঝলসানো গোলাপ!

দৈর্ঘ্য দাড়িঁয়ে বিয়নের পেছনে লাথি দেবে

দৈর্ঘ: আর তুই হলি একটা ঝলসানো কুত্তা।

বিয়ন দৌড়ে চলে যাবে। দৈর্ঘ্যও মটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে পড়বে।

কাট

(ইন্টার কাট দৃশ্য)

দৃশ্য: ০৯

স্থান: দৈর্ঘ্যরে রুম

সময়: দিন

চরিত্র: দৈর্ঘ্য, সেলিম

প্রপস: ইয়াবা

দৈর্ঘ্য তার রুমে। মিউজিক বাজছে ফুল ভলিউমে। সে কম্পিউটারে বিভিন্ন মেয়ে মডেল সার্চ করে বেড়াচ্ছে। মাঝে দু’বার নেশা জাতীয় ট্যাবলেট খাবে। ট্যাবলেট খাবার পর নিজে থেকেই নো’ নো’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠবে। এক সময় নিজের মোবাইলটা হাতে তুলে নিবে। কথা বলবে সেলিমের সঙ্গে:

দৈর্ঘ্য: কই তুই। আমি ক্লাবে যাই। তুই জলদি আয়। কাজ আছে।

ও প্রান্ত থেকে সেলিম রাস্তায় মোটরসাইকেল চালাতে চালাতে উত্তর দেবে

সেলিম: মামা কি ডোজ বেশি পড়ছে। ঝিম মাইরা থাকো। সব ঠিক হইয়া যাইবো।

দৈর্ঘ্য রেগে যাবে। আরো চিৎকার কওে কথা বলবে।

দৈর্ঘ্য: তোরে ক্লাবে আইতে কইলাম। আয়। নাইলে গাইড়া ফালামু।

সেলিম হাসতে হাসতে বলবে

সেলিম: আইতাসি। গাড়িসনা বস!

কাট

দৃশ্য: ১০

স্থান: ক্যাডেট কলেজ ক্লাব বার

সময়: রাত

চরিত্র: দৈর্ঘ, সেলিম

প্রপস: অ্যালকোহলের বোতল, সিগারেট

ক্লাবের বারে দৈর্ঘ্য বসে আছে সেলিমকে নিয়ে। দৈর্ঘ্যরে গ্লাসে ওয়াইন ঢেলে দিতে দিতে সেলিম বলবে

সেলিম: তাহলে মৈত্রীর সঙ্গে তোর বন্ধুত্ব দানা বাঁধছে না?

ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে দৈর্ঘ্য বলবে

দৈর্ঘ্য: দানা না এখন গিট্টু বাঁধতে হবে।

সেলিম গ্লাসে একটা টোকা দিয়ে বলবে

সেলিম: গিট্টু দিয়ে লাভ হবেনা। মেয়েটা বুঝেছিস একেবারে আঠা ছাড়া।

দৈর্ঘ্য হেসে উঠবে

দৈর্ঘ্য: কাফিলা গাছ দেখছোস? ওরে কাফিলা গাছের আঠায় আটকামু

সেলিম গ্লাসে চুমুক দেবে

সেলিম: কেমনে  আটকাবি?

দৈর্ঘ্য হেসে উঠবে

দৈর্ঘ্য: শোন মৈত্রী ওদের ক্লাবের কাজে পাবনা যাচ্ছে। কি জানি ডাক্তারদের নিয়া কি জরিপ করবো। তুই ওরে ফলো করবি। কে যায় ওর সঙ্গে। কার সঙ্গে থাকে সব।

সেলিম গøাসে আরো মদ ঢালবে

সেলিম: ফলো করে তোর লাভ? ও যদি রাজি নাই থাকে খামাখা ঘুইরা কি লাভ? অন্য কিছু বড়শিতে ধর।

দৈর্ঘ্য একটু সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলবে

দৈর্ঘ্য: বড়শি না। ওরে আমি জাল দিয়ে আটকামু। তারপর কেমনে আছাড় দেই দেখবি। তুই কালকেই যা। ফলো দ্যাট ডাইনী।

কাট

দৃশ্য: ১১

স্থান: নির্জনের বাড়ি

সময়: দিন

চরিত্র: নির্জন, অর্পিতা

প্রপস: বাড়ির জিনিসপত্র

নির্জনের বাড়িতে অর্পিতা। বেডরুম জুড়ে ছড়ানো ছিটানো বই, সিডি-ডিভিডি। ফ্লোরে বসে একটার পর একটা বই উল্টে-পাল্টে দেখছে নির্জন। এক সময় কফি মগে চুমুক দিয়ে কবিতা বলতে থাকবে

নির্জন: তোমাকে ধন্যবাদ প্রিয়তমা/ আজ চোখ মেলতেই দেখি/ শাওনের মেঘ ভোরটি/ সাজিয়ে রেখেছো তুমি আমার করে/ তোমার তুলির আঁচড়ে মেঘময় ক্যানভাস/ সেখানে কোথাও কোথাও তোমাকে/ খুঁজে পাচ্ছি আমি, তুমিও কোন কোন/ আচঁড়ে লুকিয়ে রেখেছো আমাকে/ সেশুধু জানে শ্রাবণের মেঘ আর তুমি!

অর্পিতা লং স্কার্ট আর টি সার্ট পরা। ওর হাতে কফি মগ। বসে আছে বিছানায় হেলান দিয়ে। নির্জনের দিকে চেয়ে কথা বলবে অর্পিতা

অর্পিতা: সত্যিই কি জানি আমি তোমাকে? তোমার আজকালকার কবিতা পড়লে মনে হয়, তুমি কাউকে খুব মিস করছো । কেমন যেনো তোমাকে একলা একলা লাগে।

বই-সিডি-ডিভিডি’র উপরই শুয়ে পড়বে নির্জন

নির্জন: আমিতো দোকলা নই। একা বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ।

ভেংচি কাটবে অর্পিতা

অর্পিতা: আর বলতে হবেনা। জানিতো আমি। আমাকে কখনো তুমি সহচর ভাবতে পারবে না। যখন হতে পারতাম তখনই পালিয়েছো।

পাশ ফিরে শোবে নির্জন।

নির্জন: কারো কাছ থেকে পালাইনি অর্পিতা।আমি নিজের কাছ থেকেই পালিয়েছি। এখনো ছুটছি।

অর্পিতা উঠে এসে ফ্লোরে বসবে

অর্পিতা: আমার কথা বাদ দাও। মৈত্রীর কথাতো ভাববে। মেয়েটা বড় হয়েছে। ওর বিয়ে দিতে হবে।

নির্জন অর্পিতার হাটুঁতে হাত রাখবে

নির্জন: মৈত্রীকে এখন আর পড়তে পারিনা আমি।ও কেমন যেন দুর্বোধ্য হয়ে যাচ্ছে।

অর্পিতা নিজের করতলে নির্জণের হাত নিয়ে নেবে

অর্পিতা: আমি যদি বলি, তোমাকে আজকাল আমিও পড়তে পারছিনা।

নির্জন শব্দ করে হেসে উঠবে

নির্জন: বইয়ের কভার দেখেই বসে আছো, পাতা না উল্টালে পড়বে কিভাবে?

অর্পিতা এবার নির্জনকে নিজের কাছে টেনে নিতে চাইবে। নির্জন নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার ভাব দেখাবে

এই ছাড়ো পাতা ছিঁড়ে যেতে পারে।

কাট

দৃশ্য: ১২

স্থান: সিলেটের রাস্তা

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, রুম্পা

প্রপস: বাস

মৈত্রী বাসে। সঙ্গে রুম্পা। বাস চলছে। মৈত্রীর কাছে ফোন আসবে।

মৈত্রী: হাই। মৈত্রী বলছি।

ফোনের ও প্রান্তে স্পন্দন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাঁড়ানো

স্পন্দন: আমি স্পন্দন। পাবনা থেকে বলছি।

মৈত্রী বাসের জানালা দিয়ে বাইরে চোখ রেখে বলবে

মৈত্রী: আমরা রওনা হয়ে গেছি। সরাসরি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চলে আসবো।

স্পন্দন উত্তর দেবে

স্পন্দন: আমি অপেক্ষায় থাকবো।

এবার রুম্পা কথা বলবে

রুম্পা: এই স্পন্দনটা জোগাড় করলি কিভাবে?

মৈত্রী হেসে বলবে

মৈত্রী: একদা নাকি তিনি ঢাকাতেই থাকতেন।এখন বিবাগি হয়ে পাবনায় আছেন দশের সেবায়।

রুম্পা চকলেট খেতে খেতে বলবে

রুম্পা: বুঝলাম। নায়ক হবার জন্য সিভিটা বেশ স্ট্রং।

মৈত্রী রুম্পার হাতে চিমটি কেটে বলবে

মৈত্রী: না যেতেই নায়ক বানিয়ে ফেললি। যা দিয়ে দিলাম তোকে।

রুম্পা মৈত্রীর গায়ে পড়ে বলবে

রুম্পা: নিলাম না। বন্ধুকে করিলাম দান

তারপর দুজনেই হেসে উঠবে।

কাট

দৃশ্য: ১৩

স্থান: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, স্পন্দন

প্রপস: কমপ্লেক্স

একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করিডোর দিয়ে কথা বলতে বলতে হেঁটে আসছে মৈত্রী ও স্পন্দন। কথা বলবে স্পন্দন।

স্পন্দন: বলছিলেন আপনার বান্ধবীও আছে সঙ্গে। তাকে কোথায় রেখে এলেন।

মৈত্রী: হুম।ওর এমনিতে জার্ণি সহ্য হয়না।বাসেই কেমন চুমসে গেছে। রেস্ট হাউজে নামিয়ে এলাম।

স্পন্দন কথা বলতে থাকবে

স্পন্দন: আমি আপনাকে হলফ করে বলতে পারি, যদি আমাদের দেশের ডাক্তার-নার্সরা রোগীদের সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলেন, তাহলে ঔষুধের ব্যবহার অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসবে।

স্পন্দন তার চেম্বারে ঢুকে এক এক করে রুগি দেখতে থাকে আর সংলাপ  বলতে থাকে। মৈত্রী একটি চেয়ারে বসে।

মৈত্রী: সত্যি এই অজপাড়া গাঁয়ে পড়ে থাকা মানুষ গুলোর কষ্ট দেখে, নিজেদেরকেই খুব অসহায় মনে হয়। ওদের জন্য কিছু করতেও পারছিনা। রোগীদের অবস্থাতো আরো ভয়াবহ দেখলাম।

স্পন্দন: শহরের অবস্থা বুঝি অনেক ভালো? ডাক্তাররা রোগীদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেন, তাতে তো রোগীর রোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে...

মৈত্রী স্পন্দনের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাবে

মৈত্রী: তবে?

স্পন্দন হেসে উত্তর দেবে

স্পন্দন: একজন ডাক্তারকে দেখেই আমি উদ্বুদ্ধ হয়েছি এই প্রচারণায় নামতে। দেখেছি তার কাছে এসে রোগীরা কিভাবে রোগের কষ্ট নিমিষেই ভুলে যেতো।

মৈত্রী: তারপর থেকে পথে নেমে গেলেন?

স্পন্দন: রোগীর জন্য একটু হাসুন।

মৈত্রী: আপনার জন্য কেউ হেসেছে?

স্পন্দন: আমার জন্যে তো এরা রয়েছে। দেখছেন তো। এরাই আমার সবকিছু। হাসি কান্না... কাজ, ভালোবাসা...

স্পন্দন ইনজেকশন রেডি করে। একটি বাচ্চাকে ডেকে নেয়।

স্পন্দন    : এদিকে আয়ে... এটা নিতেই হবে...

মৈত্রী তাকিয়ে থাকে স্পন্দনের দিকে।

কাট

দৃশ্য: ১৪

স্থান: বিজিবি গেস্ট হাউজ, জাফলং

সময়: সকাল

চরিত্র: মৈত্রী, রুম্পা।

প্রপস: গেস্ট হাউসের জিনিসপত্র

ভোরে ডাকবাংলোয় ঘুম ভাঙবে মৈত্রীর। রুম্পা তখনো ঘুমে। ওদের ডাকবাংলোর ঘরটাতে ভোরের আলো এসে পড়েছে। মৈত্রী উঠে বসবে। নিজেকে গুছিয়ে নেবে একটু। তারপর রুম্পাকে ডাকবে

মৈত্রী: রুম্পা আমি একটু বাইরে থেকে আসছি। তুই তৈরি হয়ে নিস। ফিরেই বেরিয়ে পড়বো।

রুম্পা আধো চোখ মেলে ঘুম জড়ানো গলায় বলবে

রুম্পা: এই ভোরে কোথায় যাচ্ছিস।স্পন্দনের কাছে?

মৈত্রী মোবাইল আর হাত ব্যাগটা তুলে নেবে

মৈত্রী: জানি না। আপাতত ভোরের কাছে যাচ্ছি

রুম্পা ঘুমের ঘোরেই বলবে

রুম্পা: চলে এসো মামনি দুপুরের সঙ্গে দেখার হবার আগেই।

মৈত্রী দরজা ভিজিয়ে দিয়ে বেরিয়ে পড়বে।

কাট

দৃশ্য: ১৫

স্থান:  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, স্পন্দন

প্রপস: সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র

বারান্দার দুইদিকে দুটি টুল। সেখানে সারিবদ্ধ ভাবে বসে আছেন রোগিরা। স্পন্দন মৈত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বারান্দায় উঠবে। মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: এই মুখ গুলোর কাছে আসলে মনে হয়না, জীবন আসলে জলের মতো সরল।

স্পন্দন একজন রোগীর জিব পরীক্ষা করতে করতে বলবে

স্পন্দন: জলকে আপনার সরল মনে হয়? আমার কিন্তু তা মনে হয়না।

মৈত্রী একজন রোগীর হাতের ঔষুধের বোতলটা নিজের হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখতে থাকবে

মৈত্রী: দেখুন, আপনি স্বচ্ছ জলকেও যদি ঘোলা করে দেখেন, তবে সেই জলও ঘোলা। আমি সরল চোখ নিয়ে আছি তাই সবই সরল আমার কাছে।

স্পন্দন প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতে মৈত্রীর দিকে ফিরবে

স্পন্দন: আমিও তাই? দেখেন ভুল করছেন কিনা?

মৈত্রী পিলারে হেলান দিয়েই বাইরে তাকাবে

মৈত্রী : ভুল করলে, এতোদিনে মনবাকসোর দেখা পেয়ে যেতাম।

স্পন্দন এগিয়ে এসে মৈত্রীর পাশে দাঁড়াবে

স্পন্দন: সবাইকে সরল ভাবে দেখছেন, কিন্তু কারো উপরই আস্থা রাখতে পারছেন না?

মৈত্রী বারান্দা থেকে নেমে আসবে

মৈত্রী: ঠিক তা নয়, আমার সরল চোখে তাকাতে কেউ সাহস করেনি। কেউ চোখে চোখ রেখে বলতে পারেনি মৈত্রী

আমি তোমার মনবাকসো।

স্পন্দন উল্টো দিকে ঘুরবে

স্পন্দন: মৈত্রী, আমি কি এক দুবার চেষ্টা করেছি আপনার চোখে চোখ রাখতে?

মৈত্রী কাঁধ ঘুরিয়ে বলবে

মৈত্রী: যদি তাই হয়, তবে চোখে তো চোখের জলছাপ থাকবেই

কাট

দৃশ্য: ১৬

স্থান: জাফলংয়ের পাথরস্তুপ

সময়: রাত

চরিত্র: সেলিম

প্রপস: গাড়ি

রাতের অন্ধকারে হাইওয়ে রোডের পাশে রাখা বিদ্যুতের পিলারের  উপর বসে আছে সেলিম। রাস্তার উপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা। পিলারের উপর বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছে সেলিম।

সেলিম: এ টু জেড ফলোতে রাখছি। চিন্তার কারণ নেই। রিকসা বিহার করতে দেখছি, এটারে ডেটিংও কইতে পারো।

টেলিফোনের ওপাশে থাকা দৈর্ঘ্য ক্লাব বারে বসেই মোবাইল ফোনে কথা বলছে সেলিমের সঙ্গে।

দৈর্ঘ্য: কি কাজে  ঘুরছে পোলাডার পেছন পেছন?

সেলিম উঠে দাড়াঁবে

সেলিম: কি জানি কি কয়।ডাক্তার গো বলে হাসাইবো।

ওয়াইনের গ্লাস হাতে তুলে নেবে দৈর্ঘ্য

দৈর্ঘ্য: আর আমি ওরে কান্দামু।

সেলিম হেঁটে গাড়ির কাছে যাবে

সেলিম: বেকায়দার কিছু দেখলে দিমু নে সাইজ কইর‌্যা।

দৈর্ঘ্য শব্দ করে ওয়াইনের গ্লাস টেবিলে রাখবে

দৈর্ঘ্য: না। ওটা আমার জন্যই থাক।

কাট

দৃশ্য: ১৭

স্থান: মানিকগঞ্জ

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী, স্পন্দন

প্রপস: আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র

ক্যাম্প ফায়ার হতে পারে

মৈত্রী: কোন কোন মূহুর্ত আসে যখন মনে হয়  পৃথিবীটা ইচ্ছে করলে এখানেই থেমে যেতে পারে। আবার এমনই মনে হয় জানেন,এই মূহুর্তে যদি পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়, এক  লাফে চলে যাবো।

স্পন্দন: এখন  বুঝি সেই মূহুর্ত?

মৈত্রী: একদম। বুঝতে পারছিনা পৃথিবীটা থেমে যাবে, নাকি আমি চলে যাবো?

স্পন্দন: যদি চলে যান তাহলে আপনার বাবার কি হবে?

মৈত্রী শব্দ করে হেসে উঠবে।

মৈত্রী: এই যে মৈত্রী আছে, পৃথিবীটাও আছে, মৈত্রী চলে গেলো তো পৃথিবীও মূল্যহীন। এই জল, শ্যাওলা, মেঘের ছায়ার মতোই আমার বাবাও পড়ে থাকবে মৈত্রীহীন পৃথিবীতে।

স্পন্দন: আর কেউ কি আপনাকে হারিয়ে একলা হবে না?

মৈত্রী স্পন্দনের দিকে তাকাবে, স্পন্দনও তাকাবে ওর দিকে। মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: কই হবে নাকি, জানিনা তো, আপনি জানেন?  আপনি চলে গেলে কেউ একা হবে?

স্পন্দন: যদি কোন সহচর থাকে, তবেই না তার কাছে প্রত্যাশা থাকে। আমি গন্তব্যহীন মেঠো পথের একলা পথচারী

মৈত্রী মোবাইলে কিছু একটা খোঁজার চেষ্টা করছে

মৈত্রী: কোন কাকতাড়ুয়াও বলেনি, এই যুবক দাঁড়াও

বলে নিজেই হেসে উঠবে। স্পন্দন মৃদু হেসে বলবে

স্পন্দন: বোঝেন, কাকতাড়ুয়াও পাত্তা দিলোনা।

মৈত্রী গালে হাত রেখে গাঢ় চোখে স্পন্দনের দিকে তাকিয়ে বলবে

মৈত্রী: কাকতাড়ুয়া নয়, কোন মানবী যদি কখনো বলে স্পন্দন, তোমার স্পন্দিত বুকে আমার

বন্দনা করো। তাহলে ?

স্পন্দন শব্দ করে হেসে উঠবে

স্পন্দন: দেবীর ডাক কি উপেক্ষা করা যায়?

কাট

দৃশ্য: ১৮

স্থান: বিজিবি গেস্ট হাউজ, জাফলং

সময়: সন্ধ্যা

চরিত্র: মৈত্রী, রুম্পা, সেলিম ও তার দল।

প্রপস: মোটর বাইক

একটি ডাক বাংলো। রাতে সেখানে কথা বলতে বলতে হেঁটে বেড়াচ্ছে মৈত্রী ও রুম্পা। তাদের পেছনে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে থামবে সেলিম।

সেলিম: মিস ঢাকা, এই বৃন্দাবনে লীলা কেমন চলছে?

মৈত্রী বিরক্তি নিয়ে তাকাবে

মৈত্রী: আমাকে কি করতে হবে, চলে যেতে হবে এখান থেকে?

সেলিম মোটরসাইকেল থেকে নেমে দাঁড়াবে

সেলিম: উত্তর যখন জানাই আছে, তখন..

মৈত্রী ডাকবাংলোর দিকে হাঁটতে থাকবে

মৈত্রী: যখন থাকতে আসেনি তখনতো ফিরে যাবোই। কিন্তু আপনার মহাজন দৈঘ্যের তাতে কি লাভ?

সেলিম মৈত্রীর পাশে হাঁটতে থাকবে

সেলিম: সেই লাভ হিসেব করার ক্যালকুলেটার আমার হাতে নেই, আমার কাছে শুধু থাকে হলুদ, লাল কার্ড।

এবার রুম্পা কথা বলবে

রুম্পা: দৈর্ঘ্য ক্যাডার পালে তাতো জানা ছিলো না। স্যালারি সিস্টেম, নাকি রোজ চুক্তি?

সেলিম রেগে যাবে

সেলিম: বাহ মুরগীর তিন নম্বর ছানাটা দেখি ডানা ঝাপটায়। একটা ডানাও থাকবো না।

এবার মৈত্রী সেলিমের সামনে দাঁড়াবে

মৈত্রী: জানতে চাই আমার জন্য কোন রঙ?

সেলিম পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করবে।

মৈত্রী সঙ্গে সঙ্গে সেলিমের গালে চড় দেবে

মৈত্রী: আপনার বসকে বলবেন তার জন্য লাল কার্ড।

কাট

দৃশ্য: ১৮.১

স্থান: সিলেট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, নার্স

প্রপস: চিঠি

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করিডোর দিয়ে হেঁটে আসবে মৈত্রী। বিভিন্ন রুমে উঁকি দেবে। সব রুমই ফাঁকা। কোনটিতে তালা দেয়া। এর মধ্যে একজন নার্সকে দেখা যাবে করিডোরে এসে ঢুকতে। মৈত্রী তার কাছে গিয়ে দাঁড়াবে

মৈত্রী: আপনি নিশ্চয়ই স্পন্দনকে চেনেন। এখানে রোগী ও ডাক্তার নিয়ে কাজ করেন।

নার্স মাথা দোলাবে

নার্স: চিনি। উনিতো প্রতিদিনই এখানে আসেন। গতকাল তো আপনাকেও দেখলাম উনার সঙ্গে।

মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: ঠিকই দেখেছেন।  এক টুকরো কাগজ পাবো?

নার্স কাঁধ নেড়ে সায় দেবে, তারপর একটি কাগজ এগিয়ে দেবে মৈত্রীর হাতে। মৈত্রী  চিঠি লিখবে।(ভয়েজ ওভারে মৈত্রীর কণ্ঠ যাবে)

স্পন্দন,

সুপ্রভাত। আমাকে যেতে হচ্ছে। কেনো যাচ্ছি, তা নিয়ে ভেবে স্বাস্থ্য নষ্ট করবেন না। যদি কোন দেবীর দেখা না পেয়ে, কোন কাকতাড়ুয়ারও দেখা পান, জানাবেন। যাচ্ছি, রঙীন থাকুন।

লেখা শেষ করে কাগজটি টেবিল থেকে নেয়া একটি খামে ভরবে মৈত্রী, তারপর বলবে

মৈত্রী:  স্পন্দন এলে এই খামটি দেবেন। মৈত্রী খামটি নার্সের হাতে দিয়ে বেরিয়ে আসবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে।

কাট

(ইন্টারকাট দৃশ্য)

দৃশ্য: ১৯

স্থান: নির্জণের বাড়ি, মানিকগঞ্জ

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, নির্জন

প্রপস: বাড়ির জিনিসপত্র

মৈত্রী বাড়িতে ফিরে বাবাকে পাবেনা। দেখবে দরজার মধ্যে একটা রঙীণ কাগজে হিজিবিজি ছবি আঁকা। তার পাশে নির্জন লিখে গেছে:

(ভয়েজওভার)

আম্মাজান,

হঠাৎ নিজেকে পরিযায়ী পাখির মতো মনে হচ্ছে। আমার তো এভাবে বন্দী থাকার কথা নয়। তাই উড়াল দিলাম। যদি কারো শিকারের কবলে না পড়ি। আর ভুলে না যাই ফেরার পথ। তাহলে দেখা হতে পারে। রঙীন থাকিস।

- তোর দুষ্টু বাবাটা

মৈত্রী নির্জনকে ফোন করবে। প্রথম কয়েকবার রিং হলেও নির্জন ধরবেনা। অবশেষে নির্জন ফোন ধরবে।

মৈত্রী: বাবা তুমি কোথায় ? দরজায় যেটা ঝুলছে। সেটা কবিতা নাকি সত্যি কোথাও ডুব দিয়েছো?

নির্জন একটা পাকা পুকুর ঘাটে বসা।

ওর চারপাশে বইপত্র ছড়ানো।

নির্জন: নেটওয়ার্কে যখন পেয়েছিস, তখন আছি এই গ্রহেই। তুই কখন ফিরলি?

মৈত্রী বাথরুমে ঢুকে পড়বে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলবে

মৈত্রী: আর একটা কথা শুনতে চাইনা আমি। এখনই রওনা হও। না হলে তোমার খবর আছে।

মৈত্রী ফোন রেখে দেবে। নির্জন হেসে উঠবে শব্দ করে তারপর বিড়বিড় করে বলতে থাকবে

নির্জন: আম্মা, আম্মা, আমার জান, ও আম্মা

কাট

দৃশ্য: ২০

স্থান: মানিকগঞ্জ

সময়: দিন

চরিত্র: নির্জন, ভ্যান চালক

প্রপস: ভ্যান

গ্রামের রাস্তায় ভ্যান গাড়িতে করে ফিরছে নির্জন। চালকের উল্টো দিকে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে আছে। ভ্যানচলকের সঙ্গে কথা শুরু করবে

নির্জন: খোকা মিঞা, আবার যে কবে ফিরি। না ফিরলেও তোমাদের কথা মনে থাকবে। আর যদি চলে যাই অন্য কোথাও তোমরা আমাকে মনে রেখো।

ভ্যান চালক ঘাড় ঘুরিয়ে বলবে

ভ্যান চালক: কই যাইবেন দাদা ভাই?

একটু উদাস ভঙ্গিতে নির্জন বলবে

নির্জন: দাওয়াত আছে, তবে তারিখ ঠিক হয় নাই।

সামনের রাস্তার দিকে তাকিয়ে ভ্যান চালাতে চালাতে খোকা মিঞা উত্তর দেবে

ভ্যান চালক: কি কন দাদা ভাই। কিছুই বুঝিনা। আপনি কবি মানুষ। সব কিছু লইয়াই কাব্য করেন

নির্জন হাসতে হাসতে ফেলে আসা রাস্তার দিকে আংগুল তুলে দেখাবে

নির্জন: দেখো খোকা মিঞা রাস্তাটাও কেমন করে কাব্য করতে করতে বেঁকে গেছে।

খোকা মিঞা পেছন ফিরে ফেলে আসা আকাঁবাঁকা পথ দেখবে।

কাট

দৃশ্য: ২১

স্থান: নর্থ সাউথ/ আইইউবি

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, বিয়ন, রুম্পা, জিহান

প্রপস: আনুষাঙ্গিক

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের মধ্যে বন্ধুরা সব জড়ো হয়েছে। সেখানে মৈত্রী, বিয়ন, রুম্পা, জিহান রয়েছে। সবাই বেঞ্চিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে। জিহান কথা বলবে

জিহান: মৈত্রী ডার্লিং তুমি ফিরে আসাতে কি বাঁচাটা যে বেঁচে গেলাম ।

মৈত্রী ক্লাসের হোয়াইট বোর্ডের দিকে চুইংগাম ছুঁড়ে দেবে

মৈত্রী: কেনো না ফিরলে তোকে কিডন্যাপ করতো কেউ?

জিহান একটু চোখ বাঁকিয়ে বলবে

জিহান: হতেও পারতো দৈর্ঘ্য আমাকে তুলে নিয়ে তোর জন্য জিম্মি করে রাখতে পারতো।

মৈত্রী হাত তালি দিয়ে বলবে

মৈত্রী: ঐ কে আছিস। দৈর্ঘ্যরে ফোন লাগা। আমাদেও জিহান ম্যাডাম জিম্মায় যেতে তৈরি

এবার বিয়ন চিৎকার দিয়ে বলবে

বিয়ন: ধুর থামতো। ফ্যাশন শো’র কথায় আয়

রুম্পা বেঞ্চি থেকে লাফিয়ে গিয়ে টিচার টেবিলের সামনে দাঁড়াবে

রুম্পা: কতোদূর এগুলো তোমাদের ফ্যাশন শো’র প্রিপারেশন।

বিয়ন বলবে

বিয়ন: কাল ফাইনাল রিহার্সসেল। মৈত্রী তুমি আবার হাওয়া হয়ে যেওনা। কাল বিড়াল হণ্টনে চলে এসো।

মৈত্রী ভ্যাংচি কাটবে

মৈত্রী: আমার দ্বারা ম্যাঁওয়ের মতো করে হাঁটা হবে না। যেভাবে হাটি সেভাবেই হাঁটবো।

বিয়ন উঠে এসে মৈত্রীর হাত ধরে বলবে

বিয়ন: বন্ধু টেনশন নিও না। তোমার জন্য কোচ নিয়ে আসবোনে?

ভ্রু কুঁচকে মৈত্রী, জিহান, রুম্পা একযোগে বলবে

সবাই: কোচ?

বিয়ন বলবে

বিয়ন: বিড়াল হণ্টনের কোচিং করাতে বিড়াল নিয়েই আসবো।

জিহান, মৈত্রী, রুম্পা “গেলি” বলে বিয়নকে ধরতে যাবে। বিয়ন দৌড়ে করিডোর দিয়ে পালিয়ে যাবে।

কাট

দৃশ্য: ২২

স্থান: নর্থ সাউথ/ আইইউবি

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, দৈর্ঘ, রুম্পা, জিহান, বিয়ন

প্রপস: দুটি বিড়ালের বাচ্চা

হল রুমে রিহার্সেল চলছে। মৈত্রী, দৈর্ঘ্য, রুম্পা, জিহান এবং অন্যান্যরা আছে সেখানে। ক্যাটওয়াক প্র্যাকটিস করছে সবাই। দৈর্ঘ্য দূরে দাঁড়িয়ে আছে। মৈত্রী ভুল করছে বারবার। এক সময় ওর চোখ যাবে দৈর্ঘ্যরে দিকে। ও চিৎকার করে বলবে

মৈত্রী: রিহার্সেলে প্রাইভেসি বলে একটা বিষয় আছে। এই শো’য়ের সঙ্গে যারা নেই তাদের বেরিয়ে যেতে বল।

দৈর্ঘ্য কাছে এসে মৈত্রীর সামনে দাঁড়াবে

দৈর্ঘ্য: আমার কাছে তোমার কোন প্রাইভেসি থাকবে না, ওকে।

মৈত্রী ওর হাতের মোবাইল ছুঁড়ে ফেলবে

মৈত্রী: তোরা কি ওকে এখান থেকে বের করবি। নাকি আমি বেরিয়ে যাবো

দৈর্ঘ্য ঠোঁট কামড়ে বলবে

দৈর্ঘ্য: আমিই যাচ্ছি।

দৈর্ঘ্য বেরিয়ে যাবে। আবার ক্যাটওয়াকের রিহার্সেল শুরু হবে। এবারো মৈত্রীসহ ওরা ভুল করতে থাকবে।

মৈত্রী থেমে গিয়ে কাপড় ছুঁড়ে দিয়ে বলবে

মৈত্রী: ধূর বাদ দে আমাকে দিয়ে হবেনা।

বিয়ন দুই কোলে দুই বিড়াল নিয়ে এ সময়ে হল রুমে এসে ঢুকবে

বিয়ন: নো টেনশন। তোমাদের কোচ চলে এসেছে

সবাই বিয়নের দিকে তাকাবে বিয়ন হাতের দুটো বিড়াল ফ্লোরে ছেড়ে দেবে সবাই হাসতে থাকবে।

আর বিড়ালের ঢঙে হাঁটার চেষ্টা করতে থাকবে।

কাট

দৃশ্য: ২৩

স্থান: নর্থ সাউথ/ আইইউবি (গ্রিনরুম)

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, জিহান, রুম্পা

প্রপস: গ্রিনরুমের জিনিসপত্র

গ্রিনরুমে মৈত্রী, জিহান ও রুম্পা। সবাই সাজগোজে ব্যস্ত। মৈত্রীকে মেকাপ দেয়া হচ্ছে।

জিহান কথা বলবে

জিহান: মৈত্রী আজ যে আবার কয় জনে হার্ট ব্রেক করবি গড নউজ।

মৈত্রী মেকাপ নিতে নিতেই উত্তর দেবে

মৈত্রী: ব্রেক হলে সমস্যা কি। মলম লাগাতে তো তোরা আছিসই।

রুম্পা হাসতে হাসতে বলবে

রুম্পা: শোন। হার্টের অয়েণ্টমেন্ট হিসেবে জিহান ব্র্যান্ডটা কিন্তু আজকাল মার্কেটে বেশ চালু। অন্যরা সবাই একযোগে বলে উঠবে।

সবাই:  যদি হার্টের সুরক্ষা চান। বেশি করে জিহান মলম লাগান।

শব্দ করে হেসে উঠবে সবাই।

কাট

দৃশ্য: ২৪

স্থান: নর্থ সাউথ/ আইইউবি ( ফ্যাশন প্যারেড গ্রাউন্ড)

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, শুভ্র,দৈর্ঘ্য, অন্য মডেল ও অন্যান্য

প্রপস: আনুষাঙ্গিক

ফ্যাশন প্যারেডে কিউ দিয়ে আছে মৈত্রী। তার পরনে পশ্চিমা ঢংয়ের পোশাক। ফ্যাশন প্যারেডে ক্যাটওয়াকে মৈত্রী। হল ভর্তি দর্শক। মৈত্রীর ছবি তোলায় ব্যস্ত ফোটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফাররা। শুভ্র দর্শক সারিতে বসে এতক্ষণ ক্যাটওয়াক দেখছিল। শুভ্র উঠে গিয়ে মৈত্রীর সামনে দাঁড়াবে। শুভ্রকে সামনে দেখে মৈত্রী বলবে:

মৈত্রী: আপনিও ছবি তুলবেন? তুলুন

শুভ্র হাত বাড়িয়ে দেবে মৈত্রীর দিকে

শুভ্র: বন্ধু হতে চাই

মৈত্রী সরাসরি চোখ রাখবে শুভ্রের চোখে

মৈত্রী: কার, মডেল কণ্যার?

শুভ্র মাথা নাড়বে। মৈত্রী তাকে নিয়ে প্যারেড মঞ্চে এগিয়ে যাবে।

স্টার্ট পয়েন্ট থেকে শুভ্রকে নিয়ে হেঁটে আসবে শেষ প্রান্তে। শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে কিউ দেবে। আবার ফটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফাররা হামলে পড়বে প্যারেড মঞ্চে। দৈর্ঘ্য সেটা দূরে বসে দেখবে আর ঠোঁট কামড়াবে।

কাট

দৃশ্য: ২৫

স্থান: ঢাকার রাস্তা

সময়: রাত

চরিত্র: দৈর্ঘ্য, সেলিম

প্রপস: মোটর বাইক

সেলিম আর দৈর্ঘ্য একটি প্রায় নির্জন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। দুইজন দুই মোটর সাইকেলে বসা। কথা বলবে দৈর্ঘ্য

দৈর্ঘ্য: মৈত্রীর বাড়াবাড়িটা দেখতাছোস তুই?

সেলিম চোখ থেকে সানগøাস খুলবে

সেলিম: ফলোতে তো আমিই আছি। বাড়ছে বেশি। বাপে কবিতা লেখে। মাইয়া উইর‌্যা বেড়ায়।

দৈর্ঘ্য মোবাইল উপরের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে

আবার হাতে নেবে

দৈর্ঘ্য: ওর ডানা দুইটা কেমনে ভাঙ্গি।

সেলিম মৃদু হেসে বলবে

সেলিম: তুই ভাবছোস। ডানা ভাঙলে ও তোর বুকে পইড়্যা ঝাঁপটাইবো। শালি কিন্তু কড়া আছে।

দৈর্ঘ্য মোটরসাইকেলে উঠে স্টার্ট দেবে

দৈর্ঘ্য: আমারে কি তোর মিঠা মনে হয়?

দৈর্ঘ্য মোটর সাইকেল নিয়ে চলে যাবে।

তার পিছু নেবে সেলিম।

কাট

দৃশ্য: ২৬

স্থান: কফিশপ

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, শুভ্র

প্রপস: কফি

দুজনে বসে আড্ডা দিচ্ছে

মৈত্রী: ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর জন্য থ্যাংকস।

শুভ্র: রিকোয়েস্ট রাখার জন্য ধন্যবাদ

মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: আমিতো ফ্যাশন প্যারেডেই রিকোয়েস্ট রেখেছি

শুভ্র হাসতে হাসতে বলবে

শুভ্র: হুম তা ঠিক। আমি নিজের সঙ্গে নিজেই বাজি ধরেছিলাম ।

মৈত্রী কফিতে চুমুক দিয়ে বলবে

মৈত্রী: দেখলেন আপনাকে জিতিয়ে দিলাম আমি

শুভ্র বলবে

শুভ্র: কি জানি হয়তো আপনিই জিতে গেলেন

মৈত্রী ভ্রু কুঁচকে বলবে

মৈত্রী: হোয়াট?

শুভ্র হাসতে হাসতে

শুভ্র: কিছুনা। এমনি।

কাট

(ইন্টারকাট দৃশ্য)

দৃশ্য: ২৭

স্থান: ঢাকার রাস্তা, নির্জনের বাড়ি

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, নির্জন

প্রপস: গাড়ি

হুড খোলা গাড়ি চালাচ্ছে মৈত্রী। মোবাইল ডায়াল করে নির্জন ধরবে। নির্জন বারান্দায়। বারান্দার এক কোনে ইজেল রাখা।সেখানে সাদা ক্যানভাস। ক্যানভাসে রং ছিটানো। তার মাঝে মাঝে কবিতা লিখছেন নির্জন। ফোন ধরেই কবিতা বলতে থাকবে-

নির্জন: আকাশে কাল চাঁদ ছিল দশ আনা/ আজ যদি হয় তা এগার আনা/ তোমাকে দেবো তার এক আনা ..

মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: বাবা। আমি মৈত্রী। আমাকে এক আনাও দিতে হবেনা। তুমি অপর্ণা আন্টিকে ফোন দিয়ে  কবিতা শোনাও।

নির্জন কানে মোবাইল রেখেই ক্যানভাসে লিখতে লিখতে বলবে

নির্জন: কতো কাছে তুমি/ মাপতে গিয়েই দুরত্বটা গেলো বেড়ে...

মৈত্রী একটু রাগ দেখিয়ে বলবে

মৈত্রী: বাবা।তুমি ভুল নম্বরে কবিতা পড়ছো। আমি জানতে চাই ওষুধটা খাওয়া হয়েছে কিনা?

নির্জন আবারো কবিতা শোনাবে মৈত্রীকে

নির্জন: কেনো যে তোমার দেখা পাই/ কেনো যে আমারে পাইনা

মৈত্রী বিরক্তি নিয়ে ফোনটা কেটে দেবে

মৈত্রী: বুঝছি পুরাই কবিতায় টাল।

মৈত্রী তার গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে ঢুকবে।

কাট

দৃশ্য: ২৮

স্থান: নর্থ সাউথ/ আইইউবি (ক্যান্টিন)

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, রুম্পা, বিয়ন

প্রপস: খাবার, মৈত্রীর মোবাইল

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনে মৈত্রী, রুম্পা এবং বিয়ন। কথা বলবে বিয়ন

বিয়ন: কবির মাইয়া চলে হুড খোলা গাড়িতে। আহ। আমিও কবিতা লেখা শিখিবো। তখন তোমরা দেখিবে আমার মাইয়াও গাড়ি চালাইবে।

রুম্পা বলবে

রুম্পা: তোমার মাইয়ার সময় হুড খোলা হেলিকপ্টার আসবো।

মৈত্রী ওদের কথা শুনে মিটমিট করে হাসবে

মৈত্রী:  জনাব বিয়ন, আমার দাদা যেমন আমার বাবাকে জমিদারী দিয়ে গেছে। আপনার বাবাকেও অনুগ্রহ করে সেটি দিয়ে যেতে বলবেন। তাহলে হুড খোলা এরোপ্লেন চালাবে আপনার মেয়ে।

বিয়ন মৈত্রীর হাত ধরে বলবে

বিয়ন: দোস্ত তুমি মাইন্ড করছিস?

মৈত্রী হেসে বলবে

মৈত্রী: আরে মাইন্ড করার কথাতো তোর। তোর বাবার জমিদারী নিয়ে কথা বললাম।

বিয়ন টেবিলের উপর উঠে বসে বলবে

বিয়ন: রাজকণ্যা আমাকে তুমি বরণ করিও। তবে আমি অটো হয়ে যাবো রাজপুত্তুর।

মৈত্রী বিয়নকে ধাক্কা দিয়ে বলবে

মৈত্রী: বাইরে কলসি অপেক্ষা করছে তোকে বরণ করিতে।

ওরা হেসে উঠবে।

এর মধ্যে মৈত্রীর ফোনে ম্যাসেজ আসবে শুভ্রের।

ম্যাসেজ: রাতে ফ্রেন্ড সার্কেলের ডিসকোতে যাচ্ছি। তোমাকে সঙ্গী করতে চাই।

মৈত্রী ম্যাসেজের উত্তর দেবে

মৈত্রী: ইট’স মাই প্লেজার।

কাট

দৃশ্য: ২৯

স্থান: ডিজে ক্লাব

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী, শুভ্র ও অন্যান্য

প্রপস: ক্লাবের জিনিসপত্র

ডিসকো পার্টিতে দেখা যাবে মৈত্রী ও শুভ্র মিউজিকের তালে তালে নাচছে।

শুভ্র কথা বলা শুরু করবে

শুভ্র: ভাবছি লং ড্রাইভে যাবো তোমাকে নিয়ে।

মৈত্রী হাসবে

মৈত্রী: কোথায়?

শুভ্র মৈত্রীর কোমড় ধরে কাছে টানার চেষ্টা করবে. . .

মৈত্রী সাড়া দেবে না।

শুভ্র: রুটটা তুমি ঠিক করো

মৈত্রী হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কাছের চেয়ারে গিয়ে বসবে মৈত্রী রহস্যময় হাসি দিয়ে বলবে

মৈত্রী: আমি ভেবেছিলাম লাইফের কোন একটা ডেস্টিনেশনে যাবার কথা বলছেন।

শুভ্র পেছন থেকে দাঁড়িয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে বলবে

শুভ্র: আমিতো আগেই বলেছি রুট তুমি

ঠিক করবে মাই রক গার্ল!

কাট

দৃশ্য: ৩০

স্থান: নির্জনের বাড়ি

সময়: দিন

চরিত্র: নির্জন, মৈত্রী

প্রপস: ক্যানভাস, ইজেল

নির্জন তার ঘরে ক্যানভাসে একটা কবিতা লিখেছে। সেই কবিতার চারপাশে অলংকরণ করছে। এর মধ্যে ঘরে মৈত্রী ঢুকবে। মৈত্রী নির্জণের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে

মৈত্রী: কি লিখলে আজ?

নির্জন মেয়ের কাঁধে হাত রেখে কবিতা পড়বে

নির্জন: মেঘের কাছে মেঘ জমা রাখবো/ যেমন করে তোমাকে রেখেছি তোমার কাছে/ তুমিও আমার কাছে আমাকে রাখতে শেখো/ দেখবে ভাল আছো, সুখে আছো

মৈত্রী নির্জনকে জড়িয়ে ধরে বলবে

মৈত্রী: আমাকে তুমি কার কাছে রেখেছো?

নির্জন মৈত্রীকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলবে

নির্জন: দেখ, কোথায় রেখেছি...

মৈত্রী বুক থেকে সরে এসে বলবে

মৈত্রী: কাল সকালে আমি বাইরে যাচ্ছি। ঢাকার বাইরে শ্রীমঙ্গল। একটা স্টাডির কাজে।

নির্জন বলবে

নির্জন: আর কে কে যাচ্ছে।

মৈত্রী হাতে রংতুলি নিয়ে বলবে

মৈত্রী: স্টাডি গ্রæপের সবাই তুমি ভেবোনা। একদিন পরই ফিরবো।

মৈত্রী ক্যানভাসে একটা আঁচড় দিয়ে বেরিয়ে যাবে।

নির্জন সেদিকে তাকিয়ে থাকবে।

কাট

দৃশ্য: ৩১

স্থান: শ্রীমঙ্গলের রাস্তা

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, শুভ্র

প্রপস: গাড়ি

শুভ্র গাড়ি চালাচ্ছে। মৈত্রী পাশে বসা। মৈত্রী কথা বলবে

মৈত্রী: আমি আউটিংয়ে আসতে চাই কেনো জানো?

শুভ্র হেসে বলবে

শুভ্র: না বললে জানবো কি করে

মৈত্রী শুভ্রর হাতের বাহুতে ঘুষি দেবে

মৈত্রী: বাবা আমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতো। নদী দেখাতো। আর দেখাতো তাল গাছ। আমি এখন ওদের দেখতেই বেরিয়ে পড়ি।

শুভ্র মৈত্রীর দিকে তাকিয়ে বলবে

শুভ্র: বাবা কি করেন?

মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: বাবা কবিতা লিখেন। ছবিও আকেঁন। আর ডাল-ভাতের যোগান আসে দাদা'র সম্পত্তি থেকে।

শুভ্র: এমন দাদা পেলেতো পায়ের উপর না কাধেঁর উপর পা দিয়ে বসে খেতাম।

মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: আপাতত এক্সিলেটরে পা রাখো!

কাট

দৃশ্য: ৩২

স্থান: জাফলং সরকারী গেস্ট হাউজ

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী, শুভ্র

প্রপস: গেস্ট হাউজের জিনিসপত্র

রিসোর্টের রুম ।

মৈত্রী ওয়াশরুম থেকে রাতের পোশাক পরে বের হবে। শুভ্র সেদিকে বিস্ময় নিয়ে তাকাবে।

শুভ্র: নন্দিনী বাতি নেভাবো?

মৈত্রী একটু ঢঙ করে বলবে

মৈত্রী: বলে কয়ে বুঝি বাতি নেভাতে হয়?

শুভ্র উঠে দাঁড়িয়ে মৈত্রীর কাঁধে হাত রেখে বলবে

শুভ্র: এ ঘরে আজ মোমের আলোরও দরকার নেই। নন্দিনীর আলোর কাছে মোমের আলো হারিয়ে যাবে।

মৈত্রী ঘুরে শুভ্রর কাঁধে দুহাত রাখবে

মৈত্রী: আলো-আঁধারির জ্ঞান খুব ভাল জানা আছে দেখছি। কতজনের আলোতে পুড়েছো শুনি।

শুভ্র মৈত্রীর গালে হাত রাখবে

শুভ্র: পুড়ে গেলে এই আমাকে সামনে পেতে? তবে আজ পুড়ে মরতে চাই।

মৈত্রী শুভ্রর কাঁধ ছেড়ে দিয়ে জানালার সামনে দাঁড়াবে

মৈত্রী: আচ্ছা শুভ্র মরতে চাইলেই কি মরে যাওয়া যায়। মরণের সংজ্ঞা তোমার জানা আছে?

শুভ্র এসে মৈত্রীর পাশে দাঁড়াবে বাইরের আকাশের দিকে তাকাবে

শুভ্র: আজ শুধু ভালবাসার মরণের কথা হোক। তোমার ভালবাসায় আমার মৃত্যু হোক।

মৈত্রী একটু উদাসীন হয়ে বলবে

মৈত্রী: বাহ, শুভ্র কেমন স্বার্থপর তুমি দেখেছো? নিজে ভালবাসায় মরে যেতে চাও। কিন্তু আরেকটি মানুষেরও যে

সেই সাধ টুকু আছে, তা একবারও ভাবনায় আনলে না।

শুভ্র পেছন থেকে মৈত্রীকে জড়িয়ে ধরবে

শুভ্র: বাহ। তুমি উদার হলে, আমি বুঝি কৃপণ থেকে যাবো?

মৈত্রী শুভ্রর উপর একটু ভর দেবে

মৈত্রী: মানুষ কি চাইলেই উদার হতে পারে?  মনের লেনদেন কি  মেপে মেপে চলে শুভ্র?

শুভ্র গিয়ে ঘরের বাতি নিভিয়ে দেবে

শুভ্র: আলোটা বড্ড বেশি মনে হচ্ছিল। এখন এই আলোটাই ভাল। নন্দিনীর আলোয় পুড়ে যাবো। তুমি দেখো

আমার ঝলসে যাওয়া।

অন্ধকারেই শোনা যাবে মৈত্রীর গলা

মৈত্রী: বালক তুমি ঝলসে যেতেও শেখোনি

কাট

দৃশ্য: ৩৩

স্থান: জাফলং সরকারী গেস্ট হাউজ

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী, শুভ্র

প্রপস: গেস্ট হাউজের জিনিসপত্র

রিসোর্টের রুম থেকে হন্তদন্ত হয়ে বেড়িয়ে আসবে মৈত্রী। পরনে হাতাকাটা গেঞ্জি। থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট। আলুথালু। বিধ্বস্ত ভাব। পেছন পেছন শুভ্রও বেরিয়ে আসবে। শুভ্র হাফপ্যান্ট পরা আর খালি গায়। চুল এলোমেলো। মৈত্রী বারান্দার পিলারের সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়াবে। বিড়বিড় করে বলতে থাকবে

মৈত্রী: ভুল হলো।ভীষণ ভুল।এতো দ্রুত উফ!

শুভ্র অন্যদিকের পিলারে হেলান দিয়ে উল্টো দিকে তাকিয়ে বলবে

শুভ্র: ভুল কেনো। আমার তো ভুল মনে হচ্ছে না।

মৈত্রী দাঁতে নখ কাটতে থাকবে

মৈত্রী: মন তো দুজনার দুটো তাইনা।দুই মন হলে হয়তো এক কথাই বলতো

শুভ্র ঘুরে মৈত্রীর দিকে তাকাবে

শুভ্র: আমরা কি এক হইনি মৈত্রী?

মৈত্রী বারান্দা থেকে নেমে এসে উঠোনে বসে পড়বে

মৈত্রী: তুমি এক হওয়া বোঝো শুভ্র?

শুভ্র বারান্দা থেকে বলবে

শুভ্র: আমার এক হবার যে সংজ্ঞা জানা, সেখানে কোন ভুল নেই। তোমার জানাতে ভুল ছিল হয়তো

মৈত্রী বসা অবস্থায়ই শুভ্রর দিকে ফিরবে

মৈত্রী: শুভ্র, তুমি হয়তো প্রতিদিন তোমার মতো করে সম্পর্কের সংজ্ঞা তৈরি করো। কিন্তু আমি বদলে

যাইনা। বদলে যায়না আমার জানা সংজ্ঞাটিও। তাই বলছি আমরা এক হতে পারিনি।

শুভ্র নিচে নেমে এসে বলবে

শুভ্র          : চার দেয়ালের মাঝে তোমার আলোর নিচেই তো আমরা দুই থেকে একে পৌঁছে গেলাম।

মৈত্রী উঠে রুমে ঢুকে যাবার আগে দরজায় দাঁড়িয়ে বলবে

মৈত্রী: শরীর এক হয়েছে,  মন তো এক হয়নি শুভ্র।

(স্যাড মোমেন্ট: থিম সং বাজবে)

মৈত্রীকে বাড়ি পৌঁছে দেবে শুভ্র।

কাট

দৃশ্য: ৩৪

স্থান: অর্পিতার অফিস

সময়: দিন

চরিত্র: অর্পিতা, মৈত্রী

প্রপস: অফিসের জিনিসপত্র

অর্পিতা বার্তাকক্ষ ঘুরে দেখছে। এর মধ্যে মৈত্রী এসে বার্তাকক্ষে ঢুকবে। অর্পিতার কাছ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বলবে

মৈত্রী: রুমে চলো কথা আছে

অর্পিতা মৈত্রীর দিকে বিশেষ ভাবে তাকাবে

অর্পিতা: খুব সিরিয়াস কিছু মা?

মৈত্রী অর্পিতার চোখে চোখ রেখে মাথা দুলাবে। অর্পিতা বলবে

অর্পিতা   : যাও রুমে গিয়ে বসো। আসছি আমি।

মৈত্রী অর্পিতার রুমে গিয়ে বসবে। কলমদানী থেকে কলম নিয়ে কাগজে একের পর এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন

দিতে থাকবে। কোনটি ছোট আবার কোনটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন। এরমধ্যে অর্পিতা এসে রুমে ঢুকবে।

অর্পিতা   : তুই হঠাৎ উধাও হয়ে গেলি?

অর্পিতা তার চেয়ারে বসবে। মৈত্রী ওর দিকে না তাকিয়েই উত্তর দেবে

মৈত্রী: মনটা উধাও হতে চেয়েছিল। শুভ্রের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলাম।

অর্পিতা মৈত্রী যে পাতাটিতে আকঁছিল,  সেটি তুলে নিলো।

অর্পিতা: আউটডোর ডেটিং?

মৈত্রী চোখ রাখবে অর্পিতার চোখে

মৈত্রী: এভাবে বলছো কেনো। একটা স্টাডির কাজে গিয়েছিলাম।

অর্পিতা চোখ সরিয়ে নিয়ে বলবে

অর্পিতা: হুম ওটা উপলক্ষ্য মাত্র। বাবা জানতো?

মৈত্রী মাথা নুইয়ে রেখেই বলবে

মৈত্রী: স্টাডির ব্যাপারটা জানতো, শুভ্রের বিষয়টা বলা হয়নি অর্পিতা ডেস্কটপে কাজ শুরু করবে। কাজ করতে করতেই বলবে

অর্পিতা: কতোদূর এগুলো। কবে বিয়ে করছিস তোরা?

মৈত্রী যেনো একটা অবাক হবে

মৈত্রী: বিয়ের কথা বলছো কেনো। ওসব তো ভাবিনি কিছু। আর শুভ্রকে নিয়ে এসব ভাবার কি আছে? ওকে দিয়ে হবেনা।

অর্পিতা একটু ঘুরে দেখবে মৈত্রীকে, একটু চটুল হাসি থাকবে অর্পিতার চোখে

অর্পিতা: কেনো কোন সমস্যা ধরা পড়লো?

মৈত্রী যেনো একটু লজ্জা পেলো। সেটা সামলে নিয়েই উত্তর দেবে

মৈত্রী: ওর সব রহস্যই আমার জানা। এখন আর ইন্টারেস্ট ফিল করছিনা।

অর্পিতা এবার একটু গাঢ় চোখে মৈত্রীর দিকে তাকাবে

অর্পিতা: খেয়াল করেছো, খুব অল্প সময়ে, ইন্টারেস্ট হারানোটা তোমার রোগ হয়ে যাচ্ছে?

মৈত্রী অর্পিতার চোখে চোখ রেখে, তারপর চোখটা নামিয়ে নিয়ে বলবে

মৈত্রী: ইণ্টারেস্ট ধরে রাখার দায় কেবল আমাকেই নিতে হবে?

মৈত্রী উঠে অর্পিতার রুম থেকে বেরিয়ে যাবে।

কাট

(ইন্টারকাট দৃশ্য)

দৃশ্য: ৩৫

স্থান: পরিবাগের রাস্তা, যায় যায় দিন

সময়: সন্ধ্যা

চরিত্র: নির্জন, অর্পিতা

প্রপস: সাধারণ জিনিসপত্র

নির্জন ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে। কখনো দাড়িঁয়ে দেয়াল লিখন বা পোস্টার দেখছে। আবার হাঁটছে। মোবাইল বেজে উঠবে। অর্পিতার ফোন। অন করেই নির্জন কথা বলবে

নির্জন: জ্বী ম্যাডাম বলেন, সমস্যা না সম্ভাবনা?

অর্পিতা অফিসের করিডোরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।

অর্পিতা: তোমার মেয়ে কোথায় উধাও হয়েছিল জানো?

নির্জন রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটেই কথা বলবে

নির্জন: কোন একটা স্টাডিতে গেছিল।

অর্পিতা দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়াবে

অর্পিতা: সঙ্গে শুভ্র ছিল

নির্জন ফুটপাতের পাশের একটা চায়ের দোকানে গিয়ে দাঁড়াবে

নির্জন: নামটা নতুন শুনলাম। কণ্যার সঙ্গে কথা হয়েছে তোমার?

অর্পিতা তার রুমের দিকে হাঁটতে থাকবে

অর্পিতা: তিনি এসেছিলেন। নির্জন মেয়েটার দিকে একটু নজর দাও। বসো ওর সঙ্গে। এভাবে হয়না। একটা ছেলের সঙ্গে ঘুরে এসে বলছে  তার উপর ইন্টারেস্ট হারিয়ে ফেলেছে।

নির্জন হেসে উঠবে

নির্জন: জানার গাড়ীটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে তো ইন্টারেস্ট হারাতেই হয়। এ্যাই তুমিও আমার উপর ইন্টারেস্ট হারাচ্ছো নাকি?

অর্পিতা রেগে উঠবে

অর্পিতা: নির্জন, সব কিছু নিয়েই তোমার ফান। ধুর।

অর্পিতা ফোন কেটে দেবে।

কাট

দৃশ্য: ৩৬

স্থান: নির্জনের বাড়ি, মৈত্রীর ঘর

সময়: দিন

চরিত্র: নির্জন, মৈত্রী

প্রপস: গান শোনার উপকরণ

মৈত্রী তার রুমে ভলিউম বাড়িয়ে গান শুনছে। নির্জন দরজায় গিয়ে টোকা দিয়ে ডাকবে

নির্জন: মৈত্রী, মৈত্রী, দরজাটা খোল।

মৈত্রী দরজা খুলবে না।

নির্জন বিরক্ত হয়ে এসে মোবাইল তুলে নেবে হাতে।

রিং দেবে মৈত্রীর মোবাইলে।

মৈত্রী গানের তালে তালে ভেতরে নেচে চলছে।

মোবাইল দ্বিতীয় দফা বাজার পর রিসিভ করবে

মৈত্রী: কি বলবে বলো। আওয়াজ পাচ্ছো না আমি গান শুনছি।

নির্জন তার নিজের রুমে চলে এসেছে।

নির্জন: আমি শুধু না। আশপাশের বাড়ির লোকজনও শুনছে। ভলিউম কমা। আমার রুমে আয়।

মৈত্রী বিরক্ত হয়ে কম্পিউটার অফ করে দেবে।

নির্জন তার পাশের টেবিল থেকে একটা অ্যালবাম বের করবে। অ্যালবামের পাতা উল্টাতে থাকবে সে। মৈত্রী এসে রুমে ঢুকবে। বসে পড়বে মেঝেতে নির্জনের মুখোমুখি। কথা বলবে নির্জন

নির্জন: স্টাডি কেমন হলো?

মৈত্রী হাঁটুর উপর থুতনি রেখে বসা।

মৈত্রী: ভালো। আরো দুই-একবার যেতে হতে পারে।

অ্যালবামের পাতা উল্টাতে উল্টাতে নির্জন বলবে

নির্জন: শুভ্রও যাবে?

মৈত্রী হাঁটু থেকে মাথা তুলে নির্জনের দিকে তাকাবে।

নির্জনের চোখ অ্যালবামের দিকে।

মৈত্রী: আমি যাবো আমার যেতে হবে সেটা জানি। আর কে যাবে তা তো জানিনা।

অ্যালবামে চোখ রেখেই নির্জন বলবে

নির্জন: পথের সঙ্গী কে হবে জানা উচিত।

মৈত্রী উঠে দাঁড়াবে

মৈত্রী: বাবা তুমি কিন্তু আমার প্রাইভেসিতে উঁকি দিচ্ছো।

নির্জনও উঠে দাঁড়াবে।

মৈত্রীর পাশে এসে দাঁড়াবে

নির্জন: বাবার কাছ থেকে দূরে থাকার নাম বুঝি প্রাইভেসি?

নির্জন অ্যালবামের একটি পাতা মৈত্রীর সামনে মেলে ধরবে। যেখানে বাবা ও মেয়ের ছবি দেখা যাবে

নির্জন: আমি এই মৈত্রীকে ফিরে পেতে চাই।

নির্জন অ্যালবামটি মৈত্রীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যাবে। মৈত্রী অ্যালবামে ছবি'র দিকে অপলক চেয়ে থাকবে।

কাট

দৃশ্য: ৩৭

স্থান: ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা

সময়: ভোর

চরিত্র: মৈত্রী

প্রপস: সাধারণ আনুষাঙ্গিক

(সিরিজ অফ শটে গানটি চিত্রায়ণ হবে)

ভোরের নির্জন রাস্তা। মৈত্রীকে দেখা যাবে সাইকেল চালিয়ে আসছে। আনমনা ভাবে সাইকেল চালাচ্ছে সে। ব্যাকগ্রাউন্ডে নিচের গানটি বাজবে।

কোথায় যাচ্ছো জানোতো?/ তোমার কি আছে/ মন  রাখার কোন বাকসো/ মন তোমার কাছে থাকেনা/ কার কাছে যাবে জানেনা/ এ্যাই মেয়ে যাচ্ছো কোথায় জানোতো?/ ডাক পিয়ন মনটা তোমার/ বেড়ায় ঘুরে শহর/ মাটির ঘর কাঁচের ঘর/ কোথাও নেই তার মনছাপ/ কোথায় রাখবে তুমি/ তোমার অপেক্ষায় আছে কি/ কোন মনবাকসো?

মৈত্রী এক রাস্তা থেকে আরেক রাস্তায় ঘুরে একটি মেঘ শিরীষ গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়াবে। সাইকেলটা মেঘ শিরীষের সঙ্গে রাখবে। তারপর চেয়ে থাকবে মেঘ শিরীষের ডালপালার দিকে। যেখান থেকে ভোরের রোদের রেখা এসে পড়ছে।

কাট

দৃশ্য: ৩৮

স্থান: নির্জনের বাড়ি

সময়: দিন

চরিত্র: নির্জন ও অর্পিতা

প্রপস: কফি

নির্জন বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। অর্পিতা পেছন থেকে দুই হাতে দুই কফির মগ নিয়ে এসে বারান্দায় আসবে। পেছন থেকেই কথা বলতে শুরু করবে অর্পিতা। কথা বলতে বলতেই নির্জনের পাশে দাঁড়াবে। কাছেই ইজেল রাখা। সেখানে একটা লেখা দেখা যাবে। অর্পিতা হেঁটে গিয়ে কবিতাটা পড়বে।

অর্পিতা   : বলতে  বলতে অনেক কথা বলা হয়ে গেল/ তুমি একমনে শুধু এঁকে যাচ্ছো, কি আঁকছো?/ আমাকে,  না অন্য কাউকে,/ আচ্ছা কথাকে কি আঁকা যায়?/ একটু এঁকে দেখবে আমার কথা গুলো...

তারপর   অর্পিতা বলবে

অর্পিতা : নিজের কথা এঁকেছো কখনো নিজে?

নির্জন অর্পিতার দিকে ফিরবে

নির্জন: নিজেকে নিজের দেখা হয়নি তো কখনো

অর্পিতা প্রসঙ্গ পাল্টাবে

অর্পিতা: চা-কফিতে চিনি বাদ দিয়ে কি লাভ?

আইসক্রিম- মিষ্টিতো চালিয়ে যাচ্ছো সমানে। মৃদু হেসে নির্জন তাকাবে অর্পিতার দিকে

নির্জন: ব্যালেন্স করার চেষ্টা করি। চা-কফিতো হরদমই  খাচ্ছি। আইসক্রিম-মিষ্টি জোটে কালে-ভদ্রে। তাও মৈত্রীর পাল্লায় পড়ে।

কফির মগে চুমুক দিয়ে অর্পণা বলবে

অর্পণা: মৈত্রীর সঙ্গে কথা বলেছো?

মগ হাতে সামনের দিকে অনির্দিষ্ট কিছুর দিকে তাকিয়ে আছে নির্জন

নির্জন: কথাতো হয়ই। কালও হলো।

অর্পিতা নির্জনের দিকে তাকাবে

অর্পিতা: কি কথা হলো?

নির্জন এবার বাইরের দিক থেকে উল্টো দিকে ফিরবে

নির্জন: আমি শুধু বলেছি, আগের মৈত্রীকে ফেরত চাই আমি

অর্পিতা নির্জণের কাঁধে হাত রাখবে

অর্পিতা: কি বললো, দেবে?

নির্জন কফির মগ হাতে, ভেতরের রুমে যেতে যেতে বলবে

নির্জন: উত্তর পাইনি।

কাট

দৃশ্য: ৩৯

স্থান: যায় যায় দিন

সময়: দিন

চরিত্র: অর্পিতা, দৈর্ঘ্য

প্রপস: ল্যাপটপ

অর্পিতা তার অফিস রুমে কাজ করছে কম্পিউটারে। সামনে দৈর্ঘ্য বসা। দৈর্ঘ্য পেপার ওয়েট নাড়ছে। কথা বলবে অর্পিতা

অর্পিতা: তোমার কথা শুনেছি। দেখা হয়নি। বলো কি বলতে চাও?

দৈর্ঘ্য অর্পিতার দিকে না তাকিয়েই বলবে

দৈর্ঘ্য: মৈত্রীকে চাই

অর্পিতা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়েই উত্তর দেবে

অর্পিতা: আমার কাছে কেন? মৈত্রীকে বলো।

দৈর্ঘ্য এবার অর্পিতার দিকে তাকিয়ে বলবে

দৈর্ঘ্য: বলেছি কাজ হয়নি।

অর্পিতা ঠোঁট উল্টে বলবে

অর্পিতা: তাহলে আর কি। আমাকে বলেও কাজ হবে না। মেয়েটা বুঝদার। সে কাকে নেবে, আর কাকে নেবেনা তা বোঝার বয়স ওর হয়েছে। আমি বললেই ও কেনো নেবে, আর কেনো বাদ দেবে?

দৈর্ঘ্য মুখ গম্ভীর করেই বলবে

দৈর্ঘ্য:  ও ধরা না দিলে যে ওর ক্ষতি হয়ে যাবে ও বুঝছেনা।

অর্পিতা শব্দ করে হেসে উঠবে

অর্পিতা: ভালো। নামটাই দৈর্ঘ্য। কিন্তু বুদ্ধি খাটোই রয়ে গেছে। ছেলে তুমি আমাকে ধমক দিতে এসেছো তাইনা? যাও বাড়ি যাও। আমি খুব ভয় পেয়েছি।

দৈর্ঘ্য একটি রেগে যাওয়ার মতো করেই বলবে

দৈর্ঘ্য: ব্যাপারটা হালকা করে দেখছেন আপনি।

অর্পিতা এবার শীতল চোখে তাকাবে

অর্পিতা:  হালকা ভাবে নিয়েছি বলেই তুমি এখন বসে আছো এখানে। ভারী ভাবে নিলে ছুঁড়ে ফেলে দিতাম রাস্তায়।

দৈর্ঘ্য একটু ভড়কে যাবে। তারপর উঠে বেরিয়ে যাবে।

কাট

দৃশ্য: ৪০

স্থান: যায় যায় দিন- অফিস ক্যান্টিন

সময়: দিন

চরিত্র: অর্পিতা, সৌরভ

প্রপস: কফি, চা

অফিস ক্যান্টিনে অর্পিতা এবং সৌরভ মুখোমুখি বসে আছে। কথা বলছে অর্পিতা

অর্পিতা: মেয়েটা একটা বিপদের মধ্যে আছে।

চায়ে চুমুক দিয়ে সৌরভ বলবে

সৌরভ: কি ধরনের বিপদ আপা

চায়ের কাপ ধরেই অর্পিতা বলবে

অর্পিতা: ও কি করছে নিজে বুঝতে পারছে না।

সৌরভ জানতে চাওয়ার ভঙ্গিতে বলবে

সৌরভ: তাহলে আমার কাছে কি হেল্প চাচ্ছেন?

অর্পিতা একটু অসহায় ভাবেই বলবে

অর্পিতা: তুমি ওকে নিয়ে একটু বাইরে যাবে?

ঘুরে আসো না। তুমিতো প্রতি ডে অফেই বাইরে যাও।

সৌরভ ভড়কে যেয়ে বলবে

সৌরভ: আমার সাথে? কেনো, আমার সাথে গিয়ে ওর কি হবে। আমি তো একলা যাই।

অর্পিতা সৌরভের হাতে হাত রাখবে

অর্পিতা: ভাইয়া তুমি আমার অনুরোধটা রাখো।

সৌরভ অর্পিতার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকবে তারপর মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানাবে।

কাট

দৃশ্য: ৪১

স্থান: মৈত্রীর রুম

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী

প্রপস: ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন

মৈত্রী ওর রুমে বসে ফেইসবুকে চ্যাট করছে। সেখানে ওকে নক করবে সৌরভ

সৌরভ: হাই।

মৈত্রী উত্তর দেবে

মৈত্রী: হ্যালো

সৌরভ লিখবে

সৌরভ: অর্পিতা মেম কিছু বলেছে আপনাকে?

মৈত্রী লিখবে

মৈত্রী: না তো।

সৌরভ লিখবে

সৌরভ: আমরা কাল আউটিংয়ে যাচ্ছি

মৈত্রী প্রশ্নবোধক ভাবে লিখবে

মৈত্রী: আমরা মানে?

সৌরভ স্মাইল সাইন দিয়ে লিখবে

সৌরভ: আমি এবং আপনি।

জিভ দেখানো সাইন দিয়ে মৈত্রী লিখবে

মৈত্রী: আমি যাচ্ছি অথচ আমি আমি জানিনা। আজব।

আপনার সঙ্গেও তো আজ প্রথম আলাপ।

সৌরভ শিং দেখানো সাইন দেবে।

এর মধ্যে অর্পিতার ফোন আসবে মৈত্রীর মোবাইলে।

মৈত্রী লিখবে

মৈত্রী: আপনার আপা ফোন দিয়েছে। দেখি কি বলেন!

সৌরভ স্মাইল সাইন দেবে।

মৈত্রী মোবাইল তুলবে

মৈত্রী: বলো

অর্পিতা বলবে

অর্পিতা: শোন। আমাদের রিপোর্টার সৌরভ। ও প্রতি ডেঅফেই ঘুরতে যায় বাইরে। এবার তুই যা না ওর সঙ্গে।

মৈত্রী একটু কৌতুক ঢংয়ে বলবে

মৈত্রী: একটা অপরিচিত ছেলের সঙ্গে ঠেলে বাইরে পাঠাচ্ছো যে!

অর্পিতা হেসে বলবে

অর্পিতা: ছেলেটা ভালো। আমার পরিচিত। আর ও বললো তোরা নাকি এফবি ফ্রেন্ড?

মৈত্রী চ্যাট বক্সে একটা জিভ দেখানো সাইন দিয়ে বলবে

মৈত্রী: হুম, ফ্রেন্ড এক্সেপট করেছিলাম হয়তো কোনদিন। আজই প্রথম নক করলো।

অর্পিতা একটু উচ্ছ¡াস মাখা গলায় বলবে

অর্পিতা: তাহলে যাচ্ছিস?

মৈত্রী খটখটে ভাবে বলবে

মৈত্রী: যেতেও পারি

ফোন রেখে মৈত্রী সৌরভের ইনবক্সে লিখবে

মৈত্রী: এখন টা টা। কাল দেখা হবে। কথা হবে।

কাট

দৃশ্য: ৪২

স্থান: ইষ্ট-ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটি

সময়: দিন

চরিত্র: দৈর্ঘ, মৈত্রী

প্রপস: আনুষাঙ্গিক

ক্লাস রুমে দৈর্ঘ্য ও মৈত্রী ছাড়া কেউ নেই। দুজনেই বেঞ্চের টেবিলের উপর মুখোমুখি বসা। মৈত্রী ট্যাবলেটে ফেইসবুক খুলে বসে আছে। দৈর্ঘ্য কথা বলবে।

দৈর্ঘ্য: কেউ একজন যদি, তোমাকে অপছন্দ করে, তবে তোমার তো জানা উচিত অপছন্দের কারণটা তাইনা?

ট্যাবলেটে চোখ রেখেই মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: না। উচিত না। ওটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। নিজস্ব রুচি।

দৈর্ঘ্য সরাসরি চোখ রাখবে মৈত্রীর দিকে

দৈর্ঘ্য: একটা মানুষ তার ব্যক্তিগত উন্নাসিকতার জন্য, তোমাকে ফিরিয়ে দেবে, আর সেটা তুমি মেনে নেবে?

ট্যাবলেট থেকে একবার চোখ তুলবে মৈত্রী, বলবে

মৈত্রী: বললাম তো, ওটা তার ব্যক্তি স্বাধীনতা।

দৈর্ঘ্য বেঞ্চ থেকে নেমে বেঞ্চের দুই সারির মাঝ দিয়ে হাঁটতে থাকবে

দৈর্ঘ্য: কিন্তু আমি যে জানতে চাই, কেনো আমি কোন একজনের কাছে অপছন্দের

মৈত্রী ট্যাবের দিকে তাকিয়েই বলবে

মৈত্রী:  কেউ তো মনে হয়, তার ব্যক্তিগত মতামত দেয়া, না দেয়ার বিষয়ে কারো কাছে জবাবদিহি দিতে বাধ্য নয়।

দৈর্ঘ্য হাঁটা থামিয়ে বলবে

দৈর্ঘ্য: আগন্তককে বাড়িতে ঢুকতে না দেয়ার কারণটা জানানোটা কিন্তু বাড়ির মালিকের কর্তব্য

মৈত্রী দৈর্ঘ্যর দিকে ঘুরে তাকাবে

মৈত্রী: বাড়ির দরজায় লেখা আছে, অসুন্দরের প্রবেশ নিষেধ

দৈর্ঘ্য রেগে গিয়ে মৈত্রীর বেঞ্চের কাছে দাঁড়াবে

দৈর্ঘ্য: আমি অসুন্দর?

মৈত্রী মৃদু হাসবে

মৈত্রী: আমি মনের কথা বলছি।

দৈর্ঘ্য মৈত্রীর দিকে ঝুঁকে বলবে

দৈর্ঘ্য: তুমি একবারও আমার মনে উকিঁ দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছো

মৈত্রী দৈর্ঘ্যরে চোখে চোখ রেখে বলবে

মৈত্রী: দূর থেকেই বোঝা গেছে, ওটা ঘুণে ধরা মনকাঠ।

কাট

দৃশ্য: ৪৩

স্থান: পাটুরিয়া ঘাট

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী , সৌরভ

প্রপস: লঞ্চ

লঞ্চের পাটাতনে দুই পা ছড়িয়ে বসে আছে মৈত্রী। পাশে সৌরভ। হাতে ক্যামেরা। কিছুক্ষণ পর পর ফ্রেম দেখছে। ফ্রেমে মৈত্রীকেও দেখে নিচ্ছে কখনো কখনো। বিরক্তি নিয়ে কথা বলবে মৈত্রী।

মৈত্রী: আমার ছবি তুলবে না।

সৌরভ ক্যামেরা আকাশের দিকে তাক করে বলবে

সৌরভ: তুলছিনা, কালার ব্যালেন্স করে নিচ্ছি।

এবার একটু রেগে যাবে মৈত্রী

মৈত্রী: মানে?

ল্যান্স পাল্টাতে পাল্টাতে সৌরভের উত্তর

সৌরভ: আকাশ নীল, তুমিও কষ্টে নীল হয়ে আছো, তাই তোমাকে দেখে ঠিক করে নিচ্ছি।

অন্যদিকে ঘুরে কথা বলবে মৈত্রী

মৈত্রী: সৌরভ এখন কি আষাঢ় নাকি ভাদ্র?

সৌরভ ঘুরে মৈত্রীর দিকে তাকাবে

সৌরভ: হঠাৎ বাংলা মাসকে স্মরণ?

মৈত্রী উঠে দাঁড়াবে গিয়ে রেলিং ধরে একটু ঝুঁকে নদী দেখবে

মৈত্রী:  মনে পড়লো তাই

মৈত্রী একমনে নদীর দিকে চেয়ে থাকবে।

আর সৌরভ তাকিয়ে থাকবে মৈত্রীর দিকে।

কাট

দৃশ্য: ৪৪

স্থান: পাটুরিয়ার চর

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী , সৌরভ

প্রপস: চারপাশের জিনিসপত্র

চরের মধ্যে এলোমেলো ভাবে হাঁটছে মৈত্রী এবং সৌরভ। একজন একেক দিকে হেঁটে যাচ্ছে আবার ফিরে আসছে। সৌরভ কথা বলবে।

সৌরভ: এরকম একটা জায়গা খোঁজ করে বেড়াই। ছুটে আসি। কিন্তু একদিন দুইদিন, তারপরই কিন্তু সরে যেতে চাই এই জায়গা  থেকে। মৈত্রী কেনো এমন মনে হয় বলতে পারো?

মৈত্রী একটা বনফুল ছিঁড়ে নেবে

মৈত্রী: সুন্দর সইতে পারিনা বলে।

সৌরভ মৈত্রীর দিকে এগিয়ে আসতে থাকবে

সৌরভ: তবে কেনো আমরা সুন্দরকে পেতে আকুল?

মৈত্রী উদ্দেশ্যহীন ভাবে হেঁটে যেতে থাকে।

হাঁটাটা এলোমেলো

মৈত্রী: সুন্দরের সংজ্ঞা জানিনা বলে

সৌরভ দৌঁড়ে এসে মৈত্রীর মুখোমুখি দাঁড়াবে ওর পথ আগলে

সৌরভ: কিন্তু আমি সুন্দরের যে সংজ্ঞা জানি তা কি মিথ্যে?

মৈত্রী শব্দ করে হেসে উঠবে। দূরে লঞ্চের ভেপুঁ শোনা যাবে।

কাট

দৃশ্য: ৪৫

স্থান: লঞ্চের উপর

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী , সৌরভ

প্রপস: লঞ্চের ভেতরের জিনিসপত্র

(কিছু শট যাবে)

অমবশ্যা রাত। লঞ্চ চলছে। লঞ্চের ছাদে একা বসে আছে সৌরভ। সামনের নিচে রেলিংয়ে নদীর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে মৈত্রী। নারী কণ্ঠে ব্যাক গ্রাউন্ডে নিচের গানটি হবে।

মনটা আমার ছেঁড়া কাগজ/ কেউ নেবেকি তার খোঁজ/ কোথায় কোন ঠিকানায়/ সে যায়, উড়ে যায়/ তুমি কি নেবে তুলে/ আমার সেই ছেঁড়া মন কাগজ।/ বড়ই পাতায় রেখেছিলাম/ কচুরীফুলে লিখেছিলাম/  তোমাকে, নাকি তোমার মতো/ কোন ছায়া মন ছুঁয়ে ছিল/ আমাকে, যার নেই ঠিকানা?/ মনটা আমার কুড়োবে কে/ মন যে আমার ছেঁড়া কাগজ।

দৃশ্য: ৪৬

স্থান: পাটুরিয়া ঘাট

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী, সৌরভ, স্পন্দন

চায়ের দোকানে মৈত্রী ও সৌরভ বসে আছে। সৌরভের হাতে চা। মৈত্রী কথা বলবে

মৈত্রী: কি যে খেতে ইচ্ছে করছে। আর কি যে করছেনা। বুঝতে পারছি না।

দোকানে ঝুলে থাকা চানাচুরের প্যাকেট দেখিয়ে বলবে

সৌরভ: চানাচুর খাও। চা খেলেও পারতে।

ঠোঁট উল্টিয়ে মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: কখনো কখনো মনে হয় সব কিছু চিবিয়ে খাই। আবার কখনো অরুচি আসে। মুখে কিছুই তুলতে ইচ্ছে করেনা।

চায়ে চুমুক দেয়া শেষ করে সৌরভ বলবে

সৌরভ: আমারো এমন হয় কখনো কখনো।

মৈত্রী একটু ঘুরে বসবে

মৈত্রী: এখানে আর ভাল লাগছেনা। অন্য কোথাও যাবো।

সৌরভ চায়ের বিল দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যাবে।

সৌরভ: কোথায় যেতে চাও?

মৈত্রীও উঠে রাস্তার দিকে যাবে

মৈত্রী: জানিনা। আপাতত এখান থেকে সরতে চাই।

মৈত্রীরা উঠে যাবার জন্য দাঁড়াবে। তখনই ঐ চায়ের দোকানে সামনে আসবে স্পন্দন। স্পন্দনের কাঁধে ব্যাক।

স্পন্দন: মৈত্রী আপনি, এখানে, ফেরিতে উঠবেন নাকি নামলেন?

মৈত্রী: আপনার সঙ্গে এখানে, এভাবে দেখা হবে ভাবতেও পারিনি।

স্পন্দন: ভাবা উচিত ছিল, পথের মানুষের সঙ্গে তো পথেই দেখা হবে।

মৈত্রী: আমিও পথেই রয়ে গেলাম। আপনি কোথায় যাচ্ছেন?

স্পন্দন: পাংশায় একটা হেলথ ক্যাম্প আছে। ওখানেই যাওয়া। আপনি?

মৈত্রী: এতোটুকুই গন্তব্য ছিল, ফিরে যাবো ।

স্পন্দন সৌরভকে দেখে বলবে

স্পন্দন:  আমরাই কেবল কথা বলে যাচ্ছি। আমি স্পন্দন!

সৌরভ: আমি সৌরভ। খবরের ফেরিওয়ালা।

স্পন্দন: আপনাকে টিভিতে দেখা যায়। আমাকে হেলথ সেন্টারে। দেখা হবে, যাচ্ছি, ফেরি ছেড়ে দিতে পারে।

স্পন্দন ফেরির দিকে এগিয়ে গেলে মৈত্রী তার পেছনে হেঁটে গিয়ে বলবে

মৈত্রী: দেখা না করে হঠাৎই ফিরতে হয়েছিল। চিঠি লিখে এসেছিলাম পেয়েছেন?

স্পন্দন: না তো, কোথায় রেখে এসেছিলেন?

মৈত্রী: আপনার রুমেই। একজন সিস্টার ছিলেন, তার কাছে

স্পন্দন: চিঠি না পাই, আপনাকে তো পেলাম।

মৈত্রী:  দেবীর দেখা পেলেন, নাকি কাকতাড়ুয়ার?

স্পন্দন:  আপতত মনে হচ্ছে দেবীর। আপনার বাকসোর ঠিকানা পেয়েছেন?

মৈত্রী:  কোন বাকসো?

স্পন্দন: মনবাকসো?

মৈত্রী:  ভাবছি মনকাঠ খুঁজে নিয়ে, নিজেই বাকসো তৈরি করে নেবো।

স্পন্দন: আপনার সঙ্গে কথা ফুরাবেনা, আজ যাই। আবার দেখা হয়ে যাবে এমন কোথাও।

স্পন্দন চলে যায়। মৈত্রী তাকিয়ে থাকে। থিম সং বেজে ওঠে।

কাট

দৃশ্য: ৪৭

স্থান: হাতিরঝিল ঢাকা, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর

সময়: রাত

চরিত্র: অর্পিতা, সৌরভ

প্রপস: বাইরের জিনিসপত্র

অর্পিতা গাড়ি চালাচ্ছে। রাতের রাস্তা। পাশে বসে আছে সৌরভ। তার দৃষ্টি রাস্তার দিকে।

অর্পিতা কথা বলছে।

অর্পিতা: সৌরভ আমি ভেবেছিলাম তুমি মেয়েটাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে? রাস্তার দিকে তাকিয়েই সৌরভ উত্তর দেবে

সৌরভ: কার কাছ থেকে, কোথা থেকে?

অর্পিতা সৌরভের দিকে ফিরবে

অর্পিতা: মেয়েটিকে ওর কাছ থেকেই ফিরিয়ে আনতে হবে। ও নিজে নিজের যে জগতটা তৈরি করেছে সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে ওকে।

সৌরভ অস্ফুট ভাবে হাসবে

সৌরভ: আপনি চেষ্টা করে দেখেছেন। অফিসে প্রায়ই দেখি ও আপনার কাছে আসে।

অর্পিতা ঠোঁট কামড়ে গাড়ি চালাচ্ছে

অর্পিতা: হুম। ওর বাবা আমার ভালো বন্ধু। বাবা মেয়েটাকে ভালবাসতেই শিখেছে। শাসন করতে শেখেনি।

সৌরভ রাস্তার দিকে তাকিয়ে বলবে

সৌরভ: আর আপনি আমাকে পাঠালেন শাসন করতে!

অর্পিতা কপট রাগ দেখিয়ে বলবে

অর্পিতা: এ্যাই ছেলে তোমাকে শাসন করতে পাঠালাম কই। তোমাকে তো পাঠালাম ভালোবাসতে। ভালবেসেও শাসন করা যায়। তোমাকে ওই কাজটাই করতে হবে।

অর্পিতা একটি সুপার শপের কাছে গাড়ি পার্ক করাবে।

কাট

দৃশ্য: ৪৮

স্থান: কফি শপ

সময়: সন্ধ্যা

চরিত্র: মৈত্রী, রুম্পা, বিয়ন, জিহান

প্রপস: কফি

রাতে কফি শপে মৈত্রী, বিয়ন, রুম্পা, জিহান। জিহান কথা বলবে

জিহান: তারপর তোর পাত্র দেখা পর্ব কেমন হলো মৈত্রী ?

বিয়ন বলবে

বিয়ন: আউটিং। নৌ বিহারে পাত্র দেখা। দোস্ত শুধু কি দেখাতেই কর্মসম্পন্ন ?

মৈত্রী রেগে যাবে

মৈত্রী: বিয়ন তোর জিবটা আমি কেটে দেবো

রুম্পা মৈত্রীকে হাত ধরে থামিয়ে বলবে

রুম্পা: রাখ। বেচারা আগে তোর বিয়েটা খেয়ে নেক।

এরমধ্যে দৈর্ঘ্য ঢুকবে কফি শপে।

এসে দাড়াঁবে ওদের সামনে।

হ্যাডশ্যাক করতে হাত বাড়াবে মৈত্রীর দিকে।

দৈর্ঘ্য: যাচ্ছি। চলে যাচ্ছি। তুমি ভাল থেকো।

দৈর্ঘ্যশ্বাস ছেড়ে বিয়ন বলবে

বিয়ন: কিরে সন্ধি করতে এলি নাকি তুই?

দৈর্ঘ্য বলবে

দৈর্ঘ্য: নারে বিয়ন। আমি জার্মানী চলে যাচ্ছি।

জিহান অবাক হয়ে বলবে

জিহান: হঠাৎ!

দৈর্ঘ্য বলবে

দৈর্ঘ্য: ভাইয়ের ব্যবসা আছে ওখানে। আপাতত ভাইয়ার কাছেই থাকবো। তারপর দেখি।

তোরা ভাল থাকিস। মৈত্রীকে দেখে রাখিস।

সবাই অবাক হয়ে দৈর্ঘ্যরে চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকবে।

মৈত্রী ধীরে ধীরে উঠে দৈর্ঘ্যরে চলে যাওয়া পথের দিকে যাবে।

দরজা থেকে বাইরের দিকে তাকাবে, তারপর ফিরে আসবে।

কফির কাপে আনমনে চিনি ঢালতে থাকবে। থিম সং বেজে উঠবে।

কাট

দৃশ্য: ৪৯

স্থান: নির্জনের বাড়ি

সময়: রাত

চরিত্র: ক্যামেরা

প্রপস: বাড়ির জিনিসপত্র

ক্যামেরা নির্জন-মৈত্রীর বাড়িতে বিভিন্ন রুম আর ব্যালকনীতে ঘুরে বেড়াবে। মৈত্রী আর নির্জনের একক ছবি। ওদের পারিবারিক ছবি। দুইজনের ছবি। মৈত্রীর ঘর। তার বই। গিটার। নির্জণের ঘর। তার কফির মগ। লেখার টেবিল। বই। পেইন্টিং। ব্যালকনিতে বসার চেয়ার। গাছ। ঘুরে দেখবে ক্যামরা। এই সময় ধীর লয়ে বেজে যাবে:

তুমি কোথায়, তুমি।/ তোমাকে হারিয়ে,/ তোমাকেই খুঁজছে সময়।/ অসময়ের পথচিত্রে/ যে মুখ ভেসে উঠে/  সেকি তোমার চেনা/ আমার করতলে/ ভেসে উঠে যে মুখ/ জেনে রাখো মেয়ে/ সেতো তুমিই/ যতোদূরে থাকো

চলে আসো/ তোমার অপেক্ষায় সময়।

কাট

দৃশ্য: ৫০

স্থান: অর্পিতার বাড়ির ছাদ

সময়: দিন

চরিত্র: অর্পিতা , মৈত্রী

প্রপস: ছাদের জিনিসপত্র

অর্পিতার বাড়ির ছাদ। সেখানে মৈত্রী ও অর্পিতা মাদুর পেতে বসে আছে। কথা বলবে অর্পিতা

অর্পিতা: সৌরভ ছেলেটাকে কেমন লাগছে?

মৈত্রীর নির্লিপ্ত উত্তর

মৈত্রী: ভালই তো।

অর্পিতা একটু চেপে জিজ্ঞাস করবে

অর্পিতা: কেমন ভাল?

মৈত্রী অর্পিতার কোলে মাথা রাখবে

মৈত্রী: এইতো। ফেইসবুকে যেমন মনে হয়েছে। দেখা হবার পর তেমনই।

অর্পিতা মৈত্রীর কপাল ছুঁয়ে দেবে হাত দিয়ে

অর্পিতা: তোর সঙ্গে যায়?

মৈত্রী উঠে পড়ে অর্পিতার দিকে তাকিয়ে বলবে

মৈত্রী: একটা ছেলের সঙ্গে পরিচয় হওয়া। দুইদিন হয়তো কোথাও কফি খেতে গিয়ে আড্ডা দিলাম। ব্যস তাকে মাপতে শুরু করতে হবে। আমার সঙ্গে যায় কিনা?

মৈত্রী ছাদের কার্নিশের দিকে এগিয়ে যাবে।

অর্পিতা গিয়ে তার পাশে দাঁড়াবে।

অর্পিতা: তোর বাবা যে তোকে নিয়ে ভাবে।

মৈত্রী হঠাৎ রেগে যাবে। অর্পিতার দিকে তাকিয়ে বলবে

মৈত্রী: আমার কারো সঙ্গে যদি হয়ে যায়, তাহলে তোমাদের হয়ে যাওয়াটাও সেরে নিতে পারো তাই না?

অর্পিতা খুব ধীরে শীতল গলায় বলবে

অর্পিতা: সেই রকম কিছু হলে, মৈত্রী আমরা অনেক আগেই করে নিতে পারতাম। তোমার  ভাবনার হিসেবটায় গোলমাল আছে।

মৈত্রীকে একা রেখেই অর্পিতা ছাদ থেকে নেমে যেতে থাকবে, মৈত্রী দৌঁড়ে গিয়ে অর্পিতার পথ আটকে দাঁড়াবে,

বলবে

মৈত্রী: তোমরা যদি একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে নিজেদের। তাহলে আমার জন্য জ্যামিতিটা মিলিয়ে নেয়া অনেক সহজ হতোনা বলো?

মৈত্রী অর্পিতাকে রেখেই নিচে নেমে যাবে।

কাট

দৃশ্য: ৫১

স্থান: নির্জনের বাড়ি

সময়: রাত

চরিত্র: নির্জন, অর্পিতা

প্রপস: বাড়ির জিনিসপত্র

নির্জনের লেখার ঘরে অর্পিতা এবং নির্জন। নির্জন লিখে চলেছে। অর্পিতা বুক সেলফে কোন একটি বই খোঁজ করছে। কথা বলা শুরু করবে অর্পিতা

অর্পিতা: আমাদের সম্পর্ক নিয়ে মৈত্রীর মধ্যে কিছু কমপ্লেক্স কাজ করছে।

লিখতে লিখতেই কথা বলবে নির্জন

নির্জন: কি করে বুঝলে?

একটা বই সেলফ থেকে হাতে তুলে নেবে অর্পিতা

অর্পিতা: আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি সৌরভের বিষয়টা নিয়ে কথা বলছিলাম।

নির্জন চেয়ারটা ঘুরিয়ে অর্পিতার দিকে তাকাবে

নির্জন: কি বললো?

অর্পিতা বইটা নিয়ে অন্য একটা চেয়ারে বসবে

অর্পিতা: ওকে কোথাও গছিয়ে দিতে চাই আমরা  নিজেরা এক সঙ্গে থাকতে।

নির্জন ঘুরে আবার লিখতে শুরু করবে

নির্জন: বুঝলাম

বইয়ের উপর চোখ রেখেই কথা বলবে অর্পিতা

অর্পিতা: তুমি সব বুঝে ফেলো বলেই কোন সমাধান হচ্ছেনা। মেয়েটা আসলে একটা ভুল ঘুর্ণির মধ্যে আছে। সেখান থেকে ওকে বের করে আনতে হবে।

নির্জন কাঁধ বাঁকিয়ে বলবে

নির্জন: দেখবে ঘুর্ণি থেকে এক সময় ছিটকে পড়বে।

অর্পিতা উঠে গিয়ে নির্জনের কাঁধে হাত রাখবে

অর্পিতা: মেয়ের ঐ ছিটকে পড়া তুমি সইতে পারবে?

নির্জন ঘুরে অর্পিতার চোখে চোখ রাখবে।

কাট

দৃশ্য: ৫২

স্থান: ঢাকার রাস্তা

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী

প্রপস: গাড়ি

মৈত্রী তার খোলা হুডের গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে রাতে। মৈত্রীর গাড়ি ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরবে । মৈত্রী কোথাও গাড়ি পার্ক করবেনা। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকবে:

(কিছু শট যাবে)

এই শহর।/ মন শহর।/ আট প্রহর।/ অচেনা মানুষের বহর।/ কে তোমার, কে আমার।/ জানেনা এই মন শহর।/ কে দূরে কে কাছে/ রাখে কে তার খবর/ দূর ,দূর কতো দূর/ মানুষ যাচ্ছে সরে/ আসবে কি ফিরে/ মানুষ মানুষের কাছে/ জানে কি তা এই শহর/ মন শহর।

মৈত্রী এক রাস্তার শেষ মাথায় এসে গাড়ি থামাবে। তাকে ক্লান্ত দেখা যাবে। স্টিয়ারিংয়ে দুই হাত রেখে সেখানে মাথা এলিয়ে দেবে।

কাট

দৃশ্য: ৫৩

স্থান: সীসা বার

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী, রুম্পা,অন্যান্য

প্রপস:  সীসা

একটি প্রায় অন্ধকার ঘর। হুকোর রঙীন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পুরো ঘর। সেখানে মৈত্রী এবং রুম্পা বসে আছে। হুকোর নলে টান দিয়ে রুম্পা বলবে

রুম্পা: কোথাও না কোথাও তোকে থামতে হবে মৈত্রী। তোকে দেখে আমারই তো টায়ার্ড লাগছে। মৈত্রী হুকোর নল হাতে নেবে

মৈত্রী: ডার্লিং তুমি টায়ার্ড হচ্ছো আমাকে দেখে। আর আমার অবস্থা তাহলে বোঝো।

রুম্পা সোফাতে শরীর এলিয়ে দেবে

রুম্পা: তোর সমস্যাটা কি, কাউকেই কেনো বিশ্বাস করতে পারছিস না?

মৈত্রী হুকোতে একটা দৈর্ঘ্য টান দেবে তারপর শুরু করবে কথা বলা

মৈত্রী: দেখ, পরিচয় হয়তো অনেকের সঙ্গেই। দূর থেকে দেখে ভালই লাগে। মুগ্ধ হই। তারপর একটু গভীরে গেলেই..

রুম্পা সোজা হয়ে বসবে সোফাতে

রুম্পা: কার সঙ্গে কতোটুকু গভীরে গেলি দোস্ত?

রুম্পা হেসে উঠবে।

মৈত্রী চোখ-নাক কুঁচকে বিরক্তি দেখিয়ে বলবে. . .

মৈত্রী: ফান করার কিছু নাই। দুই-তিন দিন মুখোমুখি বসতেই দেখি কেমন জানি কৃত্রিম মানুষগুলো। কারো ভাবনায় গভীরতা নেই। দুদিনেই ফুরিয়ে যায় জীবন নিয়ে এদের স্বপ্ন।

হাঁটুতে থুতনি রেখে বসে আছে রুম্পা

রুম্পা: আর?

মৈত্রী আবার হুঁকোর নলটা হাতে তুলে নেবে

মৈত্রী: বাকি দিনগুলো এরা কি করবে আমি বুঝিনা। জীবনের রহস্য নিয়ে যদি এদের কোন আগ্রহ না থাকে, তাহলে এরা বেঁচে আছে কি করে বল?

রুম্পা আবার গা এলিয়ে দেবে সোফাতে

রুম্পা: অগভীর মন নিয়ে হয়তো ওরাই ভাল আছে। তুই খুব গভীর করে ভাবছিস, তাই তোর যন্ত্রণাটাও বেশি।

মৈত্রী হুকোর নলে টান দিয়ে এক মূহুর্ত স্থির তাকিয়ে থাকবে। কার দিকে ওর দৃষ্টি বোঝা যাবেনা। তারপর বলবে,

মৈত্রী: যন্ত্রণা সইতে না পারার মতো হালকা জীবন, হালকা মানুষ চাইনা আমি ।

তারপর রুম্পার দিকে হুকোর নল ছুঁড়ে দেবে মৈত্রী

কাট

দৃশ্য: ৫৪

স্থান: নির্জনের বাড়ি

সময়: দিন

চরিত্র: নির্জন

প্রপস: বাড়ির জিনিসপত্র

নির্জন পুরো বাড়ি ঘুরে দেখছে। একেকটি রুমে যাচ্ছে একেকবার। সব রুমেই নির্জন মৈত্রীর ছবি, ব্যবহার করা জিনিস ধরে দেখছে। মৈত্রীর জামা তুলে নিয়ে গালের সঙ্গে লাগাবে। ছবিতে ঠোঁট ছোঁয়াবে। মৈত্রীর তানপুরার তারে হাত রাখবে। এসময় ‘দূরে কোথাও দূরে’ রবীন্দ্র সংগীতের শুধু সুরটি বাজবে।

কাট

দৃশ্য: ৫৫

স্থান: জ্যোতিষীর চেম্বার

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, জ্যোতিষী

প্রপস: চেম্বারের জিনিসপত্র

জ্যোতিষীর চেম্বার। তাকে হাত দেখাচ্ছে মৈত্রী। জ্যোতিষী বলছে

জ্যোতিষী: আপনার হাতের সব কয়টি রেখা অস্থির।

মৈত্রী অবাক হয়ে তাকাবে জ্যোতিষীর দিকে

মৈত্রী: কই। আমিতো দেখছি সব ঠিক ভাবেই আছে।

জ্যোতিষী হাত ছেড়ে দেবে মৈত্রীর

জ্যোতিষী: আপনিই যদি হাতের রেখা বুঝে থাকেন তাহলে আমার কাছে আসলেন কেনো?

মৈত্রী একটু লজ্জিত হবে

মৈত্রী: আপনি রাগ করবেন না। দেখুন আমার এমন একজনকে দরকার ছিল, যে আমার ধারণার সঙ্গে সায় দেবে।

জ্যোতিষী আবার মৈত্রীর ডান হাতটা টেনে নেবে।

তালুর দিকে তাকিয়ে বলবে

জ্যোতিষী: আপনার কি মনে হয়, সব কিছু ঠিক চলছে?

মৈত্রী নিজের হাতের তালুর দিকে একটু ঝুকবে

মৈত্রী: শুরুটা ঠিকঠাকই হয়, কিন্তু শেষটা কেমন যেন উলটপালট হয়ে যায়।

জ্যোতিষী হেসে হাত ছেড়ে দেবে

জ্যোতিষী: দেখুন ম্যাডাম হাতের রেখা চলে মনের সঙ্গে তাল রেখে। মনটা স্থির করুন। দেখবেন শেষটাও কেমন করে মিলে যায়।

মৈত্রী তার দুই হাতের তালু মিলিয়ে মিলিয়ে দেখতে থাকবে।

কাট

দৃশ্য: ৫৬

স্থান: কফি শপ

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী, রুম্পা, বিয়ন

প্রপস: কফি

মৈত্রী, রুম্পা এবং বিয়ন একটা কফি শপে আড্ডা দিচ্ছে। রুম্পা মৈত্রীর হাতটা টেনে নেবে

রুম্পা: তোর জ্যোতিষ মশাই কি বললো রে? গোলমালটা কোথায়?

মৈত্রী একটু গম্ভীর হবে

মৈত্রী: রুম্পা আমি বুঝি তোদের এন্টারটেইনমেন্ট আইটেম হয়ে গেছি তাইনা?

বিয়ন টেবিল চাপড়ে বলবে

বিয়ন: নো। মৈত্রী তুই ভুল বুঝছিস। আমরা তোকে ফিল করি।

মৈত্রী কফিতে চিনি মেশাতে মেশাতে বলবে

মৈত্রী: আমি অনেকদিন ধরে দেখছি, তোরা মজা নিচ্ছিস আমাকে নিয়ে।

রুম্পা কফি নিয়ে উঠে দাঁড়াবে। মৈত্রীর পেছনে এসে দাঁড়াবে

রুম্পা: আমরা সবাই তোকে মিস করছি। তোর অগোছালো ভাবটা আমরাও দেখছি।

বিয়ন শব্দ করে কফির কাপটা রাখবে

বিয়ন: তোর জন্য আমরা কি করতে পারি বল, আমরা আছি তোর সাথে।

মৈত্রী হেসে ফেলবে

মৈত্রী: আমার মাথায় সব কিছু জট পাকিয়ে আছে, আপাতত মাথাটা একটু হালকা করে দে।

মৈত্রী টেবিলের উপর মাথা এলিয়ে দেবে।

কাট

দৃশ্য: ৫৭

স্থান: ঢাকার রাস্তা

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী , বিয়ন

প্রপস: মোটর বাইক

রাতের শহর। মধ্য রাত। টি শার্ট আর হাফ প্যাণ্ট পরে মোটর সাইকেল চালাচ্ছে বিয়ন। পেছনে থ্রি কোয়ার্টার আর টিশার্ট পড়া মৈত্রী। মোটর সাইকেল দ্রæত ছুটছে। মৈত্রী চিৎকার করে বলবে

মৈত্রী: দোস্ত আমরা কোথায় যাচ্ছি

বিয়নও চিৎকার করে বলবে

বিয়ন: যেখানে গেলে সব হালকা হয়ে যায়

মৈত্রী হালকা কিল দেবে বিয়নের পিঠে

মৈত্রী: দেখিস উড়ে যাবো না তো?

বিয়ন শব্দ করে হেসে বলবে

বিয়ন: গ্যারান্টি নাই উড়তেও পারিস

তারপর দুইজনই শব্দ করে হেসে দেবে

কাট

দৃশ্য: ৫৮

স্থান: ডিসকো

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী, বিয়ন ও অন্যান্য

মৈত্রী বিয়নের হাত ধরে একটি ডিজে পার্টিতে এসে ঢুকবে। ডিজে পার্টির চারদিক ঘুরে দেখে মৈত্রী বলবে

মৈত্রী: এই অচেনা জায়গায় আমাকে নিয়ে আসলি কেনো?

বিয়ন ফিসফিস করে বলবে

বিয়ন: চেনা জায়গায় নিজেকে মেলে ধরা যায়না দোস্ত। এখানে কেউ তোকে চেনেনা। আমি ছাড়া।

তুই চাইলে আমিও বেরিয়ে যেতে পারি।

মৈত্রীও মৃদু ভাবে বলবে

মৈত্রী: আমি কি করবো এখানে?

বিয়ন, মৈত্রীকে একটু সরিয়ে নিয়ে বলবে

বিয়ন: নিজেকে উড়িয়ে দে। দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে। কাল থেকে হবি নতুন এক মৈত্রী।

মৈত্রী ডিজে ফ্লোরের দিকে তীক্ষ্ণ ভাবে তাকাবে

মৈত্রী: হুম তুই এখন ভাগ

কাট

দৃশ্য: ৫৯

স্থান: ডিসকো

সময়: রাত

চরিত্র: মৈত্রী ও অন্যান্য

প্রপস: ডিসকো সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র

অন্ধকার ফ্লোর। এক জায়গায় আলো এসে পড়বে। সেখানে মৈত্রী এসে লাফিয়ে পড়বে। শুরু করবে গান। তার গানের তালে তালে নেচে উঠবে পুরো ফ্লোর। গান:

আড়ি নেবে নাকি ভাব/ দূর ছাই তোমার সঙ্গে আমি নাই।/ তাহলে তো আড়ি ?/ যা ভাবো তাই।/ নিলে কি জীবনের আড়ি/ হতে পারেনা জীবনের ভাব?/ সত্যি তো কেনো হবেনা,/ তোমার মন রঙীন/ আমার শরীর

ভাবের ভাঁজে জমবে  ভাব/ রাগে রাগে বাড়বে অনুরাগ/ বলো আমাদের দুজনার/ আছে কি কোথাও

আকালের অভাব!

কাট

দৃশ্য: ৬০

স্থান: অর্পিতার বাড়ি

সময়: দিন

চরিত্র: অর্পিতা, মৈত্রী

প্রপস: বাড়ির জিনিসপত্র

অর্পিতা তার কিচেনে কিছু একটা রান্না করছে। মৈত্রীকে দেখা যাবে অর্পিতাকে সহায়তা করতে। এর মধ্যেই দুজনের কথা চলবে। মৈত্রী কথা বলবে

মৈত্রী: আমি বাইরে যাচ্ছি কাল

কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থাতেই অর্পিতা জানতে চাইবে

অর্পিতা: কোথায়, কেন?

মৈত্রীও একই ভাবে উত্তর দেবে

মৈত্রী: কোথায় যাবো ঠিক করিনি। কয়েকদিন সবার কাছ থেকে আড়ালে থাকতে চাই

অর্পিতা মৈত্রীর দিকে তাকাবে

অর্পিতা: বাবা জানে?

মৈত্রীও অর্পিতা দিকে ফিরবে

মৈত্রী: বলিনি। বলবোও না। তুমি বলে দিও।

অর্পিতা এসে মৈত্রীকে জড়িয়ে ধরবে

অর্পিতা: বাবাকে কষ্ট দেয়াতে খুব সুখ, তাই না?

মৈত্রী মাথা দোলাবে তারপর ফুপিঁয়ে কাঁদতে থাকবে।

অর্পিতার চোখ দিয়েও জল গড়িয়ে পড়বে।

কাট

দৃশ্য: ৬১

স্থান: শ্রীমঙ্গলের রাস্তা

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী

প্রপস: গাড়ি

মৈত্রী তার হুড খোলা গাড়ি নিয়ে মহাসড়ক পাড় হচ্ছে। গাড়িতে মৈত্রী একা। তার মোবাইল বাজছে কিন্তু রিসিভ করছেনা। কখনো কখনো মৈত্রী গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড় করাবে। কিছুক্ষণ থেমে আবার যাত্রা শুরু করবে। এক জায়গায় থেমে চা খাবে। তারপর মৈত্রীকে দেখা যাবে গাড়ি নিয়ে লাউয়াছড়া চা বাগানের অরণ্যে এসে ঢুকছে।

কাট

দৃশ্য: ৬২

স্থান: লাউয়াছড়া রেস্ট হাউজ

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী

প্রপস: রেস্ট হাউজের জিনিসপত্র

রাত। লাউছড়ার বাংলোর বারান্দায় বসে আছে মৈত্রী। একমনে বাইরের অন্ধকার দেখছে। বাংলোর রেলিংয়ে বসে পিলারে পিঠ ঢেকিয়ে দিয়ে উদাসীন হয়ে বসে আছে। দৃষ্টির কোন নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই।

কাট

(ইন্টারকাট দৃশ্য)

দৃশ্য: ৬৩

স্থান:  লাউয়াছড়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী ও স্পন্দন

প্রপস: কমপ্লেক্সের জিনিসপত্র

মৈত্রী লাউছড়ার ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইন ধরে হাঁটছে। মোবাইল বের করবে জীনসের পকেট থেকে। কল করবে স্পন্দনকে।

মৈত্রী: আমি মৈত্রী

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্পন্দন: আমি স্পন্দন

হাঁটতে হাঁটতেই মৈত্রী কথা বলবে

মৈত্রী: আমি জেনেই ফোন দিয়েছি।

স্পন্দন শব্দ করে হেসে উঠবে

স্পন্দন: হঠাৎ এতো দিন পর?

মৈত্রী একটু অভিমানী ঢংয়ে

মৈত্রী: আপনি বুঝি প্রায়ই খোঁজ নেন

স্পন্দন এবারও হাসতে হাসতে বলবে

স্পন্দন: বলুন কেনো ফোন দিলেন

মৈত্রী রেললাইনের উপর বসে পড়বে

মৈত্রী: দেখতে চাই।

স্পন্দন চমকে বেঞ্চ থেকে নেমে পড়বে

স্পন্দন: কাকে?

মৈত্রী গম্ভীর হয়ে বলবে

মৈত্রী: স্পন্দনকে

কাট

দৃশ্য: ৬৪

স্থান: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সময়: দিন

চরিত্র: স্পন্দন

প্রপস: কমপ্লেক্সের জিনিসপত্র

স্পন্দন বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে মৈত্রীর লেখা চিঠি। চিঠিটা ছেড়ে দেয় চিঠি হাওয়ায় উড়ে যায়।

কাট

দৃশ্য: ৬৫

স্থান: মানিকগঞ্জ

সময়: দিন

চরিত্র: স্পন্দন

প্রপস: পরিবেশের নানা জিনিস

ফ্ল্যাশ ব্যাকে মৈত্রী ও স্পন্দনের নানা মুহূর্ত। গান হবে:

তোমাকে বলবো বলে/ আমি শুনবো বলে/ পাখিরা নিশ্চুপ/ বলো তুমি শুনি/ না শুনবো আমি/ শিখেছি আমরা ভালবাসতে।/ তোমাকে দেখবো বলে/ আমি হারাবো বলে/ ফুল ফুটছে ন/ কোথায় হারাবে/ হারাবার সঙ্গী হবে

লুকোচুরি পোকা/ যারা হারিয়ে যায়/ তোমার-আমার/ মতো, তারাই বুঝি/ শিখেছে ভালবাসতে।

কাট

(ইন্টারকাট দৃশ্য)

দৃশ্য: ৬৬

স্থান: ট্রেন লাইন, সিলেট, যায় যায় দিন

সময়: দিন

চরিত্র: নির্জন ও অর্পিতা

প্রপস: নানা জায়গার জিনিসপত্র

চলন্ত ট্রেনে বসে আছে নির্জন। পত্রিকা পড়ছে। ফোন বাজবে। অর্পিতা তার অফিস রুমে বসে ফোন দিয়েছে নির্জনকে। নির্জন ফোন রিসিভ করবে।

নির্জন: বলো

অর্পিতার এক হাতে মোবাইল কানে ধরা। অন্য হাতে সে টাইপ করে যাচ্ছে

অর্পিতা: তুমি কোথায়?

পত্রিকায় চোখ রেখেই নির্জন বলবে

নির্জন: পালিয়ে যাচ্ছি

শ্লেষের হাসি দিয়ে অর্পণা বলবে

অর্পণা: বাহ ভালই তো। মেয়ে পালিয়েছে। এখন বাবা পালাচ্ছে। টিলো এক্সপ্রেস ভালই জমেছে।

নির্জনের ঠোঁটে মৃদু হাসি

নির্জন: খেলা দেখে যাও।

কী-প্যাডে জোরে শব্দ করে অপর্না বলবে

অর্পণা: তোমরা লিমিট ক্রস করছো নির্জন

কাট

দৃশ্য: ৬৭

স্থান: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিলেট

সময়: দিন

চরিত্র: স্পন্দন , মৈত্রী

প্রপস: গাড়ি

স্পন্দন মৈত্রীর গাড়িতে ওর ব্যাগ রাখে।

স্পন্দন:  কোথায় যাচ্ছি?

মৈত্রী: আমার বাবার সঙ্গে একবার দেখা করবে?

স্পন্দন: মানে আপনার বাড়ি?

মৈত্রী: আমার বাবা প্রায় বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আশা করছি আজ তোমার সঙ্গে দেখা করার পর আর না জানিয়ে চলে যাবে না।

স্পন্দন মৈত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়।

মৈত্রী: কি?

স্পন্দন:   আপনি বলেছিলেন না, চিঠিতে, হাতটা ধরতে।

মৈত্রী স্পন্দনকে জড়িয়ে ধরে।

কাট

(ইন্টারকাট দৃশ্য)

দৃশ্য: ৬৮

স্থান: ঢাকার রাস্তা, শ্রীমঙ্গলের রাস্তা

সময়: বিকেল, সন্ধ্যা

চরিত্র: মৈত্রী, স্পন্দন,অর্পিতা

প্রপস: দুটি গাড়ি

অর্পিতা রাতে ঢাকায় গাড়ি চালাচ্ছে। মৈত্রী গাড়ি চালাচ্ছে সিলেটের রাস্তায়। মৈত্রীর পাশে বসা স্পন্দন। মৈত্রীর কাছে অর্পিতার ফোন আসবে। প্রথমবার ফোনটি ধরবেনা মৈত্রী। দ্বিতীয়বার ফোন বাজলে স্পন্দন ইশারা করবে ফোন ধরতে। মৈত্রী ফোন রিসিভ করবে।

মৈত্রী: বলো

অর্পিতা বলবে

অর্পিতা:  তুই পালালি তোর বাবাও পালাল।

মৈত্রী গাড়ির গতি কমাবে

মৈত্রী: কোথায়?

অর্পিতা এক গলি থেকে অন্য গলিতে যাবে

অর্পিতা: জানি না শুধু ট্রেনের শব্দ পেলাম।

স্পন্দন: গাড়ি সাইড করে রেখে কথা বলো।

মৈত্রী হেসে বলবে

মৈত্রী: সেই শব্দ শুনে তোমার তো বুঝে যাওয়া উচিত, বাবা কোথায় যাচ্ছে।

অর্পিতার কণ্ঠে ঝাঁঝ

অর্পিতা: মৈত্রী।

মৈত্রী শব্দ করে হেসে বলবে

মৈত্রী: রাগ করো না। বাবাকে ফোন দাও একটা। বলো মনবাকসো এখন আমার হাতের মুঠোয়

স্পন্দন: মৈত্রী গাড়িটা কোথাও পার্ক করো,  না হলে তুমি উঠো, আমি ড্রাইভ করি।

অর্পিতা একটু চিৎকার করে, অবাক হয়েই প্রশ্ন করবে

অর্পিতা: মানে? কিসের, কোথাকার মনবাকসো?

মৈত্রী হাসতে হাসতে গাড়ির গতি বাড়াবে

মৈত্রী:  মনবাকসো নিয়ে ফিরছি। বাবা আর তুমি তৈরি থেকো।

কাট

(ইন্টারকাট দৃশ্য)

দৃশ্য: ৬৯ 

(প্রথম দৃশ্যের ধারাবাহিকতা )

স্থান: জাফলং নদী, গাড়ি

সময়: গোধূলী সন্ধ্যা

চরিত্র: নির্জন ও অর্পিতা

প্রপস: মোবাইল ফোন

নির্জনের হাতে মোবাইল ফোন। ফোন বেজে চলবে। নির্জন প্রথমে খেয়াল করবে না। ও পানি স্পর্শ করায় মনোযোগী। খেয়াল হলে ফোন রিসিভ করবে

অর্পিতা:  তুমি ফিরেছো?

নির্জন: শেষ সীমানা থেকে কি ফেরা যায়?

অর্পিতা: হেয়ালী রাখো, আজই রওনা হও।

নির্জন: কার কাছে ফিরবো, কোথায় ফিরবো? তুমিও  রাখলে না আমাকে। কেবল বইয়ের মলাট করে রাখলে।

অর্পিতা: নির্জন, কবিতা শুনতে ফোন করিনি। মৈত্রী বাড়ি ফিরছে। ও নাকি মনবাকসোর দেখা পেয়েছে। তোমার হাতেই তুলে দিতে চায় ওর মনবাকসো। তুমি ফেরো...

কাট

দৃশ্য: ৭০

(দুর্ঘটনার দৃশ্য)

স্থান: সিলেটের রাস্তা

সময়: দিন

চরিত্র: মৈত্রী,  স্পন্দন

প্রপস: আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র

মৈত্রী বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। স্পন্দনের চোখে ভয়। দুটি বাঁক মৈত্রী ঝুঁকি নিয়ে পার হবে। স্পন্দন এক পর্যায়ে মৈত্রীর হাত ধরবে।  কিন্তু মৈত্রী বেপরোয়া। মৈত্রীর চোখ কেবল পথের দিকে। ও  ঝাঁকি দিয়ে স্পন্দনের হাত সরিয়ে দেবে। দেখা যাবে নিজের ঠোঁট নিজে কামড়ে আছে মৈত্রী। স্পন্দনের চোখে মুখে বিধ্বস্তা ও ভয়ার্ত ভাবে সামনের পথের দিকে তাকিয়ে আছে। মৈত্রী একটি রিকশা ভ্যানকে কোন ভাবে ওভারটেক করবে। তারপর দুইজনের চিৎকার শোনা যাবে।

কাট

দৃশ্য: ৭১

স্থান: নির্জনের বাড়ি

সময়: সন্ধ্যা

চরিত্র: নির্জন, অর্পিতা, স্পন্দন

প্রপস: বাড়ির জিনিসপত্র

নির্জনের বাড়ি। দরজায় বেল বাজবে। দুইজনই এগিয়ে যাবে দরজার দিকে।

স্পন্দন দরজার সামনে দাঁড়ানো। ওর মাথায় ব্যান্ডেজ, বাম হাত প্লাষ্টার করা। ডান হাতটি ক্রাচে ভর দেয়া। প্লাস্টার করা হাত দিয়ে চায়ের কাঠের বাকসোটি বুকে আগলে রেখেছে।

নির্জন: তুমি?

স্পন্দন: মৈত্রী পাঠালো।

অর্পিতা: মৈত্রী কোথায়?

স্পন্দন: ও পথে রয়ে গেছে।

নির্জন: মানে, অর্পিতা ওনা বললো যে ফিরে আসছে, মনবাকসো নিয়ে।

স্পন্দন: ভুল বলেনি।

অর্পিতা: কোথায় রয়ে গেলো ও, আচ্ছা আপনি ভেতরে আসেন।

তিনজনই ভেতরে আসবে। স্পন্দন বলবে

স্পন্দন: আসলে মৈত্রীর ফেরার খুব তাড়া ছিল। ওর মনবাকসোকে বাবার হাতে তুলে দেবার তাড়া। তাই পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে গেল।

অর্পিতা, নির্জন দুইজনই এক সঙ্গে চিৎকরা করে বলবে: দুর্ঘটনা?

স্পন্দন: জি, বাবা। ও আমাকে আপনার কাছে তুলে দিতে চেয়েছিল। হলো না। জলদি ফিরতে গিয়ে একের পর এক ওভার টেকিং। তারপর পাশের হাওরে। রওনা হবার আগে এই বাকসোটি আপনার জন্য কিনেছিল।

আপনি চা খেতে ভালবাসেন... তাই...

স্পন্দন হাতের ভেজা কাঠের বাক্স। নির্জনের হাতে দেবে। কাঠের বাক্সের উপর লেখা -

“বাবা চায়ের সৌরভের সঙ্গে মিশে আছে তোমার মৈত্রী/ প্রতি চুমুকে তোমার আদর”

কাট

দৃশ্য: ৭২

স্থান: নির্জনের বাড়ি

সময়: সকাল

চরিত্র: নির্জন

প্রপস: বাড়ির জিনিসপত্র

নির্জনের বাড়িতে মৈত্রীর ছবি বড় করে বাঁধানো। ছবির সামনে গিয়ে নির্জন চৌধুরী চায়ের মগটি রাখবেন। তার পেছনে ক্রাচে ভর দিয়ে স্পন্দন এসে দাঁড়াবে। চায়ের মগ থেকে ধোঁয়া উড়ছে। নির্জন চৌধুরীর দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়বে।  নির্জন চৌধুরী চায়ের মগটি হাতে তুলে নিতে যাবেন, তখনই স্পন্দন তার কাঁধে হাত রাখবে। স্পন্দনের দিকে ফিরতে গিয়ে মগটি পড়ে ভেঙ্গে যাবে। ছবি থেকে মৈত্রী কথা বলে উঠবে- উফ বাবা!

টাইটেল

সমাপ্ত